গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে অকার্যকর হয়ে পড়া রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ‘রাসেল লজ’ অবসায়নের বিষয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ১৪ জুন আপিল বিভাগ রাসেল লজ অবসায়নের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন।
মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব বলেন, একজন ক্ষুব্ধ জমির মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া এই সিদ্ধান্ত একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। তাঁর মতে, বাংলাদেশের আবাসন খাতের আইনি অঙ্গনে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যেভাবে শুরু
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০২ সালে একটি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট চুক্তির মাধ্যমে বিষয়টির সূত্রপাত। চুক্তির আওতায় ভাষাসৈনিক ড. সৈয়দ আবদুল মালেকের পরিবার ঢাকার ধানমন্ডি, রায়েরবাজার শেরেবাংলা রোডের ২৮৮ নম্বর সম্পত্তি একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য রাসেল লজের কাছে হস্তান্তর করে।
কিন্তু ভবনের প্রাথমিক ভিত্তি ও পিলার স্থাপনের পর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি কাজ এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে ভবনের কাঠামো।
পরে কোম্পানিটির কোনো অর্থবহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম না থাকায় এটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, রাসেল লজের কথিত মালিক এনায়েত করিমসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা একপর্যায়ে আত্মগোপন করেন।
এ অবস্থায় জমির মালিকদেরই বকেয়া ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করতে হয়।
গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও সামনে আসে। অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়ার কথা বলে ঢাকার বিভিন্ন প্রকল্প থেকে কোম্পানির কর্মকর্তারা কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আদালতের নির্দেশের পরও তাঁরা হাজির হননি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল জমির মালিক ২০০২ সালে মারা যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তাঁর চিকিৎসক ছেলে পরিবারের পক্ষে বাংলাদেশে এসে আইনি লড়াই চালিয়ে যান।
হাইকোর্টের অবসায়নের আদেশ
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগ কোম্পানি ম্যাটার ৩৩/২০১৬ মামলায় রাসেল লজের অবসায়ের নির্দেশ দেন।
কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি অকার্যকর হয়ে পড়া এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।
তৎকালীন বিচারপতি এ এফ এম আব্দুর রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ কোম্পানিটি বিলুপ্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে আপিল বিভাগ সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এবার সেই রায় প্রকাশ করা হলো।

