দণ্ডবিধির রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত ১২৪এ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন হাইকোর্ট।
লিখিত আদেশে আদালত বলেছেন, ১২৪এ ধারার কারণে কোনো ব্যক্তি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে দেওয়া অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রিটে নেই। একইভাবে, এই ধারা প্রয়োগ করে সরকার কারও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে, এমন নির্দিষ্ট অভিযোগও করা হয়নি।
এ কারণে রিটটির কোনো সারবত্তা নেই উল্লেখ করে কোনো খরচের আদেশ ছাড়াই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করেন আদালত। রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ লিখিত আদেশ প্রকাশ করেন। এর আগে গত ৩১ আগস্ট একই বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন।
১২৪এ ধারায় যা বলা হয়েছে
রায়ে আদালত বলেন, ১৮৭০ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে দণ্ডবিধিতে ১২৪এ ধারা যুক্ত করা হয়। বিধানটি এখনো বহাল রয়েছে।
সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, এতে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও স্বীকৃত। তবে এসব অধিকারের ক্ষেত্রে সংবিধানে উল্লেখ করা স্বার্থে আইন করে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রদ্রোহের এই ধারার বিভিন্ন ব্যাখ্যাও পর্যালোচনা করেছেন আদালত। বিশেষ করে তৃতীয় ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, সরকারের প্রশাসনিক বা অন্য কোনো কার্যক্রমের প্রতি অসম্মতি জানিয়ে মন্তব্য করা হলে তা নিজে থেকেই রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ হবে না।
তবে সেই মন্তব্যে ঘৃণা, অবজ্ঞা বা অসন্তোষ সৃষ্টি না করা বা তা সৃষ্টির চেষ্টা না থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে আদালত উল্লেখ করেন।
কী চেয়েছিলেন রিটকারী
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিটটি করেন। তিনি নিজেই শুনানিতে অংশ নেন। রিটে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার সঙ্গে পড়া দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারাকে অসাংবিধানিক ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছিল।
রিট আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহের সংজ্ঞা ও শাস্তি নির্ধারণকারী এই বিধান সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধিনিষেধ তৈরি করে।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুসসহ অন্য আইন কর্মকর্তারা। রায়ের পর ইশরাত হাসান বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন তারা।

