সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োজিত থেকেও আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন- এমন ৫ শতাধিক সদস্যের সন্ধান পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। এসব সদস্যকে আইনজীবী সনদ স্থগিতের আবেদন করতে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সমিতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে বিধি অনুযায়ী তাদের সনদ স্থগিতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের তালিকা পাঠানো হবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সমিতির তালিকায় বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার আইনজীবী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ৫০০ জনের বেশি সদস্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। চাকরিতে নিয়োজিত থেকেও আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকা বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সনদ স্থগিতের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রোববার (১ নভেম্বর) সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সমিতি। এতে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত নন-প্র্যাকটিশনার সদস্যদের মধ্যে যারা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, অর্থ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন চাকরি করছেন, অথচ আইনজীবী সনদ স্থগিত করেননি, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে নির্ধারিত ফরমে আবেদন না করে সরাসরি সমিতির কাছে কিংবা মৌখিকভাবে সনদ স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন—এমন সদস্যদেরও সনদ স্থগিত করা হয়নি। তাঁদের নতুন করে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে ১২ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সনদ স্থগিতের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন বলেন, এ বিষয়ে আগেও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে আবেদন ফরমের জন্য ব্যাংকে ২ হাজার ১০০ টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি তখন জানানো হয়নি। পরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্দেশনা পাওয়ার পর সদস্যদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
সনদ স্থগিতের আবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্ধারিত ফরম, চাকরির নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ফি হিসেবে ২ হাজার ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১২ নভেম্বরের মধ্যে যারা আবেদন করবেন না, বিধিমালা অনুযায়ী তাঁদের সনদ স্থগিত করা হবে।
অন্যদিকে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগের বিজ্ঞপ্তির পরও যেসব সদস্য বৈতনিক পেশায় নিয়োজিত থেকে তথ্য গোপন করে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন, তাঁদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেই তালিকা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পাঠানো হবে।
এ ছাড়া চাকরিতে নিয়োজিত থেকেও সমিতির সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় নিয়মিত বার্ষিক চাঁদা দিয়ে আসছেন—এমন সদস্যরা সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভবিষ্যতে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবেন না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: কালবেলা

