রোহিঙ্গা প্রশ্নে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইনি সিদ্ধান্ত আসছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ১৯ নভেম্বর ২০২৬ গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলার রায় ঘোষণা করবে। এই রায় চূড়ান্ত। এর বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষের জন্য এই রায় সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রোহিঙ্গা সংকটের বড় বোঝা বহন করছে এই দেশ।
এই লেখায় আমরা দেখব, এই মামলা কী নিয়ে। গণহত্যার আইনি সংজ্ঞা কী। আগের মামলাগুলো কী শিখিয়েছে। আর বাংলাদেশের ভূমিকা কোথায়। যেখানে তথ্য যাচাই করা যায়নি, সেখানে তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।
২০১৭ সালে কী ঘটেছিল
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী উত্তর রাখাইনে গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের অভিযান শুরু করে। এতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এটি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবরণ। মিয়ানমার সরকার এই অভিযোগ মানে না। তারা বলে, এটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ছিল।
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নাগরিকত্ব ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। নিজের টাউনশিপের বাইরে যেতেও তাদের অনুমতি লাগে। এই বৈষম্য একটি দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ। আইনি বিশ্লেষণে এই পটভূমি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উদ্দেশ্য প্রমাণের সময় আদালত পুরো আচরণের ধারা দেখে।
জাতিসংঘ তদন্ত দলের সিদ্ধান্ত
২০১৮ সালে জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন তাদের প্রতিবেদন দেয়। মিশন বলেছিল, সেনাবাহিনী গণধর্ষণ ও গণহত্যা চালিয়েছে এবং এতে গণহত্যামূলক অভিপ্রায় ছিল। তারা সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ও আরও পাঁচ জেনারেলের বিচার চেয়েছিল। মিশনের সুপারিশ ছিল, উত্তর রাখাইনের গণহত্যা এবং রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের তদন্ত ও বিচার হোক।
এখানে একটি সতর্কতা দরকার। মিশনের প্রতিবেদন তদন্তের ভিত্তি। এটি আদালতের রায় নয়। মিয়ানমার বলছে, এই প্রতিবেদনের প্রমাণমূল্য নেই এবং আদালত একে গুরুত্ব দিতে পারে না। আইসিজে এই বিতর্কের নিষ্পত্তি করবে।
গণহত্যা বলতে আইন কী বোঝায়
১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনের ধারা ২ গণহত্যার সংজ্ঞা দেয়। এই সংজ্ঞায় দুটি অংশ আছে। প্রথম অংশে পাঁচটি কাজ আছে। এগুলো হলো হত্যা, গুরুতর শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি, ধ্বংস ঘটানোর মতো জীবনযাত্রা চাপিয়ে দেওয়া, জন্ম ঠেকানোর ব্যবস্থা এবং শিশুদের জোর করে সরিয়ে নেওয়া। দ্বিতীয় অংশটি আরও কঠিন। কাজগুলো একটি জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে পুরো বা আংশিক ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে করতে হবে।
এই অভিপ্রায়ই গণহত্যাকে অন্য অপরাধ থেকে আলাদা করে। শুধু বহু মানুষ মারা গেলে গণহত্যা প্রমাণ হয় না। আদালতকে দেখতে হয়, গোষ্ঠীটিকে গোষ্ঠী হিসেবেই ধ্বংসের লক্ষ্য ছিল কি না। রোম সনদের ধারা ৬ একই সংজ্ঞা ব্যবহার করে।
কনভেনশনের অন্য ধারা
ধারা ১ এ রাষ্ট্রগুলো গণহত্যা রোধ ও শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেয়। ধারা ৩ এ শুধু গণহত্যা নয়, ষড়যন্ত্র, প্রকাশ্যে উসকানি, চেষ্টা ও সহযোগিতাও শাস্তিযোগ্য। ধারা ৪ এ শাসক, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ ব্যক্তি সবাই সমান দায়ী। ধারা ৬ এ বিচার হবে অপরাধস্থলের দেশের আদালতে বা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে। ধারা ৯ এ রাষ্ট্রগুলোর বিরোধ আইসিজেতে যেতে পারে।
গাম্বিয়ার মামলা এই ধারাগুলোর ওপর দাঁড়িয়েছে। গাম্বিয়া আদালতকে বলেছে, মিয়ানমার গণহত্যা করেছে, ষড়যন্ত্র করেছে, তা রোধ করেনি এবং সন্দেহভাজনদের বিচার করেনি। এগুলো গাম্বিয়ার দাবি। আদালত এখনো কোনো দাবিকে প্রমাণিত বলেনি।
গাম্বিয়া কীভাবে মামলা করলো
গাম্বিয়া রোহিঙ্গা নির্যাতনের সরাসরি শিকার দেশ নয়। তবু মামলা করল কেন? গাম্বিয়া ১৯৭৮ সালে কনভেনশন অনুমোদন করেছে। তারা ২০১৯ সালের নভেম্বরে ধারা ৯ এর অধীনে মামলা করে। সরাসরি সম্পর্ক ছাড়া কোনো দেশের এভাবে মামলা করা এটিই প্রথম।
আইনের যুক্তি হলো, কনভেনশনের দায়িত্ব সব সদস্য দেশের প্রতি। একে ল্যাটিন ভাষায় ইরগা ওমনেস বলা হয়। মিয়ানমার আপত্তি তুলেছিল যে গাম্বিয়া আসলে সংস্থার প্রতিনিধি। ২০২২ সালের জুলাইয়ে আদালত মিয়ানমারের সব প্রাথমিক আপত্তি খারিজ করে। আদালত বলে, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও গাম্বিয়া মামলা করতে পারে। এই সিদ্ধান্তই মামলাটিকে মূল শুনানিতে পৌঁছে দেয়।
জরুরি আদেশ কী বলেছিল
২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়। আদেশে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সব গণহত্যামূলক কাজ ঠেকাতে, বাহিনীকে এসব কাজ থেকে বিরত রাখতে এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করতে বলা হয়। মিয়ানমারকে চার মাসের মধ্যে ও এরপর প্রতি ছয় মাস পরপর রিপোর্ট দিতে হয়েছে। দেশটি মোট ১২টি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। গাম্বিয়া বলেছে, এসব রিপোর্টে আদেশ মানার কোনো কারণ পাওয়া যায় না।
আইসিজের এই অন্তর্বর্তী আদেশ আইনত বাধ্যতামূলক। এটি মামলার চূড়ান্ত রায় নয়। এতে গণহত্যা ঘটেছে বলে সিদ্ধান্ত হয়নি। আদালত শুধু বলেছিল, রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ দরকার।
মূল শুনানি এবং দুই পক্ষের যুক্তি
আদালত ২০২৬ সালের ১২ থেকে ২৯ জানুয়ারি মূল শুনানি করেছে। এতে তিনজন সাক্ষী, একজন বিশেষজ্ঞ ও মিয়ানমারের একজন সাক্ষীকে জেরা করা হয়েছে। গাম্বিয়া মূলত মিন গি, চুট পিন ও মং নু গ্রামের হামলাকে উদাহরণ হিসেবে তুলেছে। তাদের দাবি, হত্যা, গুরুতর ক্ষতি, ধ্বংসাত্মক জীবনযাত্রা ও জন্ম ঠেকানোর ব্যবস্থার মতো কাজ ঘটেছে। যৌন সহিংসতাকেও তারা গণহত্যামূলক অভিপ্রায়ের প্রমাণ বলেছে।
মিয়ানমার বলছে, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের অভিযান ছিল আরসার সন্ত্রাসী হামলার জবাবে লক্ষ্যভিত্তিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান। তাদের মতে, গণহত্যামূলক অভিপ্রায়ের সরাসরি প্রমাণ নেই। ফলে মামলার কেন্দ্রে আছে একটি প্রশ্ন। এই সহিংসতার পেছনে রোহিঙ্গাদের ধ্বংসের অভিপ্রায় ছিল, নাকি অন্য লক্ষ্য ছিল?
অভিপ্রায় প্রমাণের কঠিন পরীক্ষা
অভিপ্রায় প্রমাণের জন্য আইসিজে একটি মাপকাঠি ঠিক করেছে। এটি এসেছে ক্রোয়েশিয়া বনাম সার্বিয়া মামলায়। আদালত ওই মামলায় বলেছিল, আচরণের ধারা থেকে অভিপ্রায় অনুমান করা যায়। তবে সেটিই হতে হবে একমাত্র যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত। গাম্বিয়া এই মাপকাঠিই প্রয়োগ করেছে। ২০১৫ সালের ওই রায়ে আদালত ক্রোয়েশিয়ার গণহত্যার দাবি এবং সার্বিয়ার পাল্টা দাবি, দুটোই গ্রহণ করেনি। এটি আমার জানা তথ্য, প্রকাশের আগে আইসিজের রায় মিলিয়ে নেওয়া দরকার।
অন্য কোনো ব্যাখ্যা যুক্তিসংগত থাকলে আদালত গণহত্যামূলক অভিপ্রায় অনুমান করে না। সামরিক অভিযানের নামে চালানো সহিংসতায় এই বাধা বড় হয়ে দাঁড়ায়। রায়ে আদালত এই প্রশ্নে কী বলে, তা আইনবিদরা গভীর আগ্রহে দেখবেন।
আগের মামলা কী শিখিয়েছে
আইসিজে এর আগে মূলত বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মামলায় গণহত্যা কনভেনশন ব্যাখ্যা করেছে। আদালতের গণহত্যা বিষয়ক আইনশাস্ত্র প্রধানত ওই দুই মামলাতেই তৈরি হয়েছে। বসনিয়া বনাম সার্বিয়া মামলায় আদালত ২০০৭ সালে সিদ্ধান্ত দেয়, সেব্রেনিৎসায় গণহত্যা হয়েছে। কিন্তু সার্বিয়া নিজে গণহত্যা করেনি। সার্বিয়া গণহত্যা ঠেকাতে ও অপরাধীদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। এই তথ্য আমার স্মৃতি থেকে। রায়ের মূল পাঠ দেখে নিতে হবে।
ব্যক্তির বিচারেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত আছে। রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ১৯৯৮ সালে আকায়েসু মামলায় প্রথম গণহত্যার দোষী সাব্যস্ত করে। সেখানে ধর্ষণকেও গণহত্যার কাজ হিসেবে ধরা হয়েছিল। যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনাল ক্রিস্টিচ মামলায় সেব্রেনিৎসায় গণহত্যার সিদ্ধান্ত দেয়। এই দুটি মামলার তথ্যও মূল রায় থেকে যাচাই করা দরকার। রোহিঙ্গা মামলায় গাম্বিয়ার যৌন সহিংসতার যুক্তি এই ধারার ওপরই দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ও আইসিসির এখতিয়ার
বাংলাদেশ রোম সনদের সদস্য। মিয়ানমার নয়। তাহলে আইসিসি কীভাবে রোহিঙ্গা বিষয়ে কাজ করছে? আইসিসির বিচারকরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, জোর করে বিতাড়নের অপরাধ বাংলাদেশে সম্পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য, তাই আদালতের এখতিয়ার আছে। এই যুক্তির ভিত্তি রোম সনদের ধারা ১২(২)(ক)। এতে বলা আছে, অপরাধের আচরণ যে দেশের ভূখণ্ডে ঘটেছে, সেই দেশ সদস্য হলে আদালত এখতিয়ার পায়।
২০১৯ সালের নভেম্বরে বিচারকরা প্রসিকিউটরকে তদন্তের অনুমতি দেন। অনুমতিটি ২০১৭ সালে সাত লাখ চল্লিশ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে বিতাড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রসিকিউটর কারিম খান বাংলাদেশ সফরের সময় মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন ঘোষণা করেন। অভিযোগ ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধ, অর্থাৎ নির্বাসন ও নিপীড়ন। তিনি বলেন, অপরাধ মিয়ানমারে ঘটেছে এবং আংশিক বাংলাদেশেও ঘটেছে।
পরোয়ানা এখনো আসেনি
আইসিসির বিচারকরা পরোয়ানার আবেদনে এখনো প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আইসিসির মুখপাত্র জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তিনি আরও বলেন, মিন অং হ্লাইংের এখন রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তাঁর কোনো দায়মুক্তি তৈরি হয় না। আবেদনে গণহত্যার অভিযোগ নেই। শুধু নির্বাসন ও নিপীড়নের অভিযোগ আছে। রোম সনদের ধারা ৭ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় এ দুটি আছে।
এই ধারার অন্য অপরাধগুলোও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিক। যেমন হত্যা, ধর্ষণ, দাসত্ব, বন্দিত্ব ও বর্ণবাদী ব্যবস্থা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ব্যবস্থা, নিপীড়ন ও স্বাধীনতা হরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এটি সংস্থাটির মূল্যায়ন। আদালত এখনো এই বিষয়ে রায় দেয়নি।
আরাকান আর্মির নতুন প্রশ্ন
রাখাইনের পরিস্থিতি এখন আরও জটিল। রাখাইনের বেশির ভাগ অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, তারা রোহিঙ্গাদের ওপর জোরপূর্বক শ্রম ও খেয়ালখুশি আটকের মাধ্যমে দমন বাড়িয়েছে। সংস্থাটি এসব ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলছে।
আইনজীবী অ্যাশলি কিনসেথ ২১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত বিশ্লেষণে এই বিষয়ে একটি নতুন যুক্তি তুলেছেন। কিনসেথ বলেন, শুধু যুদ্ধাপরাধ বললে বৈষম্যের পুরো কাঠামো ধরা পড়ে না। রোম সনদের যুদ্ধাপরাধের ধারায় বেগার শ্রমের জন্য আলাদা অপরাধ নেই। যুদ্ধাপরাধ প্রমাণে সশস্ত্র সংঘাতও চলমান থাকতে হয়। শান্তি চুক্তি হলে এই পথ বন্ধ হতে পারে। মানবতাবিরোধী অপরাধে সংঘাত প্রমাণ করা লাগে না। তাঁর মতে, আরাকান আর্মির নিজস্ব প্রশাসন আছে। তাই সংগঠনের শর্ত তারা পূরণ করে। নীতির প্রশ্নটি তিনি দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করবেন।
কিনসেথ আরাকান আর্মির ক্ষেত্রে গণহত্যার অভিযোগও কার্যত সমর্থন করেননি। তাঁর মতে, প্রমাণ থেকে ধ্বংসের চেয়ে তাড়িয়ে দেওয়া বা অধীনে রাখার অভিপ্রায় বেশি স্পষ্ট। এটি একজন বিশ্লেষকের মত। আইসিসির বর্তমান মামলাও আরাকান আর্মিকে নিয়ে নয়, ২০১৭ সালের ঘটনা নিয়ে। আইসিসি আরাকান আর্মির মতো গোষ্ঠীর অপরাধে এখতিয়ার পেতে হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে পুরো মিয়ানমার পরিস্থিতি আইসিসিতে পাঠাতে হবে।
রায় এলে কী হবে
আইসিজে রায় দিলে তা আইনত মিয়ানমারের জন্য বাইন্ডিং বা বাধ্যতামূলক হবে। জাতিসংঘ সনদের ধারা ৯৪ অনুযায়ী কোনো পক্ষ রায় না মানলে নিরাপত্তা পরিষদে যেতে পারে। কিন্তু পরিষদ এই ক্ষমতা আজ পর্যন্ত কখনো প্রয়োগ করেনি। তাই রায়ের কার্যকারিতা অনেকটা রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে।
তিনটি সম্ভাবনা আছে। আদালত গণহত্যা ঘটেছে বলে রায় দিতে পারে। আদালত গণহত্যা ঘটেনি বলতে পারে, তবে প্রতিরোধ বা শাস্তির দায়িত্ব লঙ্ঘনের কথা বলতে পারে। অথবা কিছু দাবি গ্রহণ করে বাকিগুলো বাদ দিতে পারে। বসনিয়া মামলার নজির দেখায়, শেষ দুটি পথও সম্ভব। কোনটি হবে, তা ১৯ নভেম্বরের আগে বলা যাবে না।
বাংলাদেশের জন্য করণীয়
বাংলাদেশ এই মামলার পক্ষ নয়। তবু তার হাতে কয়েকটি কাজ আছে। প্রথমত, কক্সবাজারের শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষ্য নিরাপদে নথিভুক্ত করতে হবে। এই সাক্ষ্য আইসিসি ও অন্য আদালতে কাজে লাগতে পারে। দ্বিতীয়ত, সরকার আইসিসির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে পারে। তৃতীয়ত, প্রত্যাবাসনের আলোচনায় জমি ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা চাইতে পারে।
দেশীয় আইনের দিকটিও দেখা দরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ এ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা আছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫ এ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলা আছে। কিন্তু বিদেশে ঘটা অপরাধে এই আইনে বিচার সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

