পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পরও তাঁর সম্পদের অংশ বুঝে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন। বাবার এস্টেট থেকে নিজেদের পারিবারিক ট্রাস্টে ৬০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
গত ২৯ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে করা আবেদনে প্যারিস অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর তাঁর এস্টেট বিভিন্ন ব্যবসায়িক চুক্তি থেকে বিপুল অর্থ আয় করেছে। কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় গঠিত পারিবারিক ট্রাস্টে এখনো কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি।
মাইকেলের তিন সন্তান প্রিন্স, প্যারিস ও বিগির জন্য এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল। ট্রাস্টের নিয়ম অনুযায়ী, ২১ বছর বয়স থেকে তাঁরা নিজ নিজ অংশের আয় পাওয়ার কথা। এ ছাড়া ৩০, ৩৫ ও ৪০ বছর বয়সে মূল তহবিলের নির্দিষ্ট অংশ পাওয়ার কথা রয়েছে।
প্যারিসের দাবি, এসব শর্ত এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এস্টেটের একমাত্র নির্বাহক জন ব্রাঙ্কার সিদ্ধান্তের ওপর তাঁদের নির্ভর করতে হচ্ছে। তিনি ঠিক করেন, সন্তানরা কখন এবং কত অর্থ পাবেন।
প্যারিসের আইনজীবীদের দাবি, গত কয়েক বছরে একাধিক বড় চুক্তি থেকে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট এক বিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ অর্থ আয় করেছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ২৮৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারে ইএমআই মিউজিকের শেয়ার বিক্রি, ২০২০ সালে ২২ মিলিয়ন ডলারে নেভারল্যান্ড র্যাঞ্চ বিক্রি এবং ২০২৩ সালে সনির সঙ্গে মাইকেলের গানের স্বত্ব নিয়ে চুক্তি রয়েছে। তাঁদের হিসাবে, বর্তমানে এস্টেটের মোট সম্পদের মূল্য ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার।
আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এস্টেটের কাছে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ ছিল। সম্ভাব্য দায়দেনা মেটানোর পরও সেখান থেকে অন্তত ৬০০ মিলিয়ন ডলার ট্রাস্টে দেওয়া সম্ভব।
প্যারিস আরও অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে এস্টেটের নির্বাহকেরা ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গত বছর থেকে এস্টেট পরিচালনা নিয়ে আপত্তি তোলার পর তাঁকে প্রকাশ্যে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে তাঁর ও ভাইবোনদের ভাতার পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ডলার কমানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে প্যারিসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মাইকেল জ্যাকসন এস্টেট কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের চলমান আইনি বিরোধসহ বিভিন্ন দায়দেনা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাস্টে পুরো অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়। এক বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, সন্তানদের জন্য ইতিমধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছে। অর্থ আটকে রাখা বা ভাতা কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তারা বানোয়াট বলে দাবি করেছে।
এস্টেট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মাইকেল জ্যাকসনের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়স হওয়ার আগে সন্তানদের কেউই মূল তহবিলের বড় অংশ পাওয়ার কথা নয়।
প্যারিসের আবেদনের ওপর আগামী ৪ ডিসেম্বর আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

