বেসিক ব্যাংক থেকে ভুয়া জামানতের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় সাবেক সচিব খাইরুল ইসলামের ছেলে মোরসালিন ইসলাম সৌরদীপের একটি শেয়ার অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার একটি জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এই আদেশ দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক সাবিকুন নাহার আদালতে এই সংক্রান্ত আবেদনটি উপস্থাপন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোরসালিন ইসলাম সৌরদীপের নামে ইউনিয়ন ব্যাংকে থাকা একটি বিও শেয়ার হিসাব রয়েছে, যাতে ৫৪ কোটি ৮৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। দুদকের দাবি, এই শেয়ার অবরুদ্ধ করা জরুরি কারণ তা একটি অনুসন্ধানাধীন দুর্নীতির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সাবেক নির্বাহী সদস্য খাইরুল ইসলাম বেসিক ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ১০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ ও আত্মসাত করেছেন। এই অর্থ ঋণ হিসেবে পেতে তিনি জাল কাগজপত্র ও ভুয়া সম্পত্তি জামানত হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে ঋণপ্রক্রিয়ায় দুর্নীতি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খাইরুল ইসলাম তার তৎকালীন পদ-পদবি ও রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে ব্যাংকিং বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘন ঘটিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার অনুযায়ী, গৃহঋণ বাবদ একজন ঋণগ্রহীতার জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমা নির্ধারিত। কিন্তু তিনি তার নাবালক সন্তান রওশন শিপারিন মেঘমালা ও মোরসালিন ইসলাম সৌরদীপের নামে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ করেন।
পরে এই অর্থ নিজের নামে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অর্থ যাতে সরিয়ে নেওয়া না যায় বা লুকানো না হয় সেই বিবেচনায় আদালত জরুরি ভিত্তিতে মোরসালিনের বিও শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।

