রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় মডেল মেঘনা আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। অভিযোগ উঠেছে, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের টার্গেট করে সুন্দরী তরুণীদের দিয়ে প্রেমের ফাঁদ পেতে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন মেঘনা আলম।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে তাঁকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শুনানিতে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে মত দেন। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বসুন্ধরার একটি ফ্ল্যাট থেকে মেঘনা আলমকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ১০ এপ্রিল রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাঁকে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
তবে মেঘনা আলমের গ্রেপ্তার নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক দেখা দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও শুরুতে কোনো মামলা না করে, বিতর্কিত ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক আটক ব্যবস্থার আওতায় তাঁকে আটকে রাখায় এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে সমালোচনা হয়। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা থাকলে প্রচলিত আইনে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের রীতি অনুসরণ না করে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আশ্রয় নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় বিভিন্ন মহল থেকে।
এই প্রেক্ষাপটে, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিককে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার তাঁকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে ধারণা করা হচ্ছে মেঘনা আলমকে গ্রেপ্তার ও আটক রাখার পদ্ধতি নিয়ে সরকারের ভেতরেও প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
মামলার তদন্ত, আটকের পদ্ধতি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া এখন নতুনভাবে নজরে এসেছে যেখানে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও মানবাধিকারের প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত যাতে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা বজায় থাকে।

