ঈদুল ফিতর, সরকারি ছুটি ও অবকাশ শেষে আগামীকাল রোববার (২০ এপ্রিল) থেকে আবারও শুরু হচ্ছে হাইকোর্ট বিভাগের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম। এ উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ হাইকোর্ট বিভাগে মোট ৪৮টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেছেন। এর মধ্যে ৩০টি দ্বৈত (ডিভিশন) বেঞ্চ এবং ১৮টি একক বেঞ্চ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতির স্বাক্ষরিত আদেশ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ‘সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ২০২৫ সালের ৯৪ নম্বর বেঞ্চ গঠন বিধি’ শিরোনামে প্রকাশিত এই আদেশে বলা হয়, আগামী ২০ এপ্রিল, রোববার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন করে গঠিত বেঞ্চগুলো দায়িত্ব পালন শুরু করবে।
প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০টি দ্বৈত বেঞ্চে যেসব বিচারপতিরা দায়িত্ব পালন করবেন তারা হলেন—বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. মনসুর আলম; বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ; বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী; বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন; বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মো. যাবিদ হোসেন।
এছাড়া রয়েছেন—বিচারপতি জে. বি. এম. হাসান ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ; বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী; বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী; বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ; বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আখতার; বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম।
আরও যারা দ্বৈত বেঞ্চে থাকবেন তারা হলেন—বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন; বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি কাজী এবাদত হোসেন; বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি সাথীকা হোসেন; বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক; বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান; বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা।
তালিকায় আরও রয়েছেন—বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেন; বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী; বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেন; বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজা; বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার।
দ্বৈত বেঞ্চের বাকি বিচারপতিরা হলেন—বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী; বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশ; বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলাম; বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নান; বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমান; বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর; বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা; বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফ।
এ ছাড়া হাইকোর্টের ১৮টি একক বেঞ্চে যেসব বিচারপতি বিচারকাজ পরিচালনা করবেন তারা হলেন—বিচারপতি আবদুর রব, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস, বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান, বিচারপতি ফরিদ আহমেদ, বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের, বিচারপতি মাহমুদুল হক, বিচারপতি জাফর আহমেদ, বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী, বিচারপতি মো. সেলিম, বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী, বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, বিচারপতি মো. খায়রুল আলম, বিচারপতি আহমেদ সোহেল, বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদার, বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ, বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসান।
প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বেঞ্চকে নির্দিষ্ট বিচারিক এখতিয়ার দিয়ে গঠন করেছেন, যার আওতায় তারা সংশ্লিষ্ট মামলা নিষ্পত্তি করবেন। এর আগে গত ২০ মার্চ থেকে ঈদ, সরকারি ছুটি ও অবকাশের কারণে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে এই সময়ের মধ্যে জরুরি মামলা নিষ্পত্তির জন্য কাজ করেছে অবকাশকালীন বেঞ্চ এবং আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট।
পুনর্গঠিত এই ৪৮টি বেঞ্চ রোববার থেকে নিয়মিতভাবে বিচারকাজ পরিচালনা শুরু করবে যা উচ্চ আদালতের বিচারকার্যকে আরও গতিশীল করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

