নারীর মরদেহে ময়নাতদন্ত নারী চিকিৎসক দিয়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন নির্দেশনা দেবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে দায়িত্বরত সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা ও অবহেলা কেন বেআইনি ও কর্তৃত্ববহির্ভূত হিসেবে ঘোষণা করা হবে না সেই প্রশ্নও তুলেছেন আদালত।
রবিবার ২০ এপ্রিল বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জুয়েল আজাদ।
এই রুলের পেছনে রয়েছে গত ১০ মার্চ দায়ের করা একটি জনস্বার্থে রিট যাতে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী চিকিৎসক ও নারী প্যারামেডিক নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করতে একটি যথাযথ নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মো. জুয়েল আজাদ, যিনি ৩ মার্চ বিষয়টি নিয়ে প্রথমে স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় পরবর্তীতে ১০ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দাখিল করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, নারীর মরদেহে পুরুষ চিকিৎসক দিয়ে ময়নাতদন্ত করা নানাবিধ মানবিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রশ্ন তোলে। এই প্রক্রিয়ায় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা যেমন থাকে তেমনি তদন্তের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও তৈরি হয় প্রশ্ন। তাই এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা পর্যায়েও নারী চিকিৎসক ও নারী প্যারামেডিকের মাধ্যমে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্ত নিশ্চিত করার দাবিও রিটে জানানো হয়।
রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাধারণ শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, নারীদের মরদেহে ময়নাতদন্তের সময় নারী চিকিৎসক এবং পেশাদার নারীকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার মতো একটি নীতিমালা দেশে এখনো বিদ্যমান নয় যা নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় ঘাটতি হিসেবে বিবেচিত।
হাইকোর্টের এই রুল জনস্বার্থে দায়ের হওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এখন রাষ্ট্রপক্ষকে আদালতে ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, কেন এতদিনেও এই ধরনের নীতিমালা তৈরি করা হয়নি এবং অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল ও নারী অধিকারকর্মীরা।

