মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২৪ জুনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (২০ এপ্রিল) এ আদেশ দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আলোচিত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক ১৯ জন সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, ফারুক খান, ডা. দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, গোলাম দস্তগীর গাজী, আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম, রাশেদ খান মেনন এবং হাসানুল হক ইনু। এছাড়া রয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী ও সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সোলাইমান সেলিম এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
তালিকায় আরও রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জাহাংগীর আলম, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে থাকা অবস্থায় অবসর নেওয়া চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওই ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আদালত আজ ২০ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিষয়ে পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২৪ জুনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
এ মামলার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিচারের মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশে একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি ঘিরে আইন, রাজনীতি ও মানবাধিকার মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সকলের দৃষ্টি আগামী ২৪ জুনের তদন্ত প্রতিবেদন ও তার ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

