কুমিল্লা নগরীর পুলিশ লাইন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয়জন আইনজীবীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাহাবুবুর হরমান এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) কাইমুল হক রিঙ্কু।
কারাগারে পাঠানো আইনজীবীরা হলেন—কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম এবং অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন। একই মামলার আরও দুই আসামি, সাবেক সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট জিয়াউল আহসান সোহাগ ও অ্যাডভোকেট এ এম এম মঈন পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩ আগস্ট কুমিল্লা নগরের পুলিশ লাইন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন পর, ৫ আগস্ট, কুমিল্লা মহানগরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক ইনজামামুল হক রানা কোতোয়ালি মডেল থানায় ২৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলায় নাম আসা অভিযুক্ত ব্যক্তিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন, যার মেয়াদ শেষ হলে সোমবার তাঁরা কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বিচারক মো. মাহাবুবুর হরমান শুনানি শেষে ১৮ জনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং বাকি ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব রাশেদুল হাসান বলেন, “৩ আগস্টের হামলায় ছাত্র ও জনতার ওপর যাঁরা হামলা করেছেন, তাঁদের মদদ দিয়েছিল কুমিল্লা বারের একটি নির্দিষ্ট আইনজীবী প্যানেল। সেই স্বৈরাচারী চক্রের লেসপেন্সারেই হামলাটি সংঘটিত হয়। এ জন্যই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এই মামলার আসামিরা জামিন পাওয়ার জন্য নানা রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই—এই হামলাকারীদের কেউ ছাড়া পেলে, ছাত্র-জনতা মিলে তাদের প্রতিহত করবে।”
এই মামলাটি কুমিল্লা অঞ্চলে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ও পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের এ সিদ্ধান্তে ছাত্রদের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা জাগ্রত হয়েছে যে, বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না।

