পিরোজপুরে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তিন সাবেক প্রকৌশলী এবং একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পদের ক্ষতির অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২১ এপ্রিল) দুদকের সমন্বিত পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সম্রাট বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদকের দায়ের করা মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন—পিরোজপুর জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী বজলুর রহমান খান, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী দুলাল চন্দ্র সরকার, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী শৈলেন্দ্র নাথ মন্ডল এবং বরিশালভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূরী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন লিটু।
মামলার বিষয়ে সোমবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানায় দুদক। সেখানে বলা হয়, কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, একটি নতুন ভবন এবং দুটি আবাসিক ভবন নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোট ৬৩ কোটি ১৯ লাখ ৯৮৩ টাকা বরাদ্দ দেয়।
নিয়মিত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেসার্স নূরী এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়। উপরন্তু, প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা ব্যাপক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে চুক্তি বাতিলের সুপারিশসহ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
দুদকের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রায় ৭১ কোটি ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯০০ টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চালিয়েছে এবং এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ রক্ষায় ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

