পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট পাঞ্জাব সরকারের করা একটি আলোচিত আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন যেখানে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের শারীরিক রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। বুধবার (২৩ এপ্রিল) এই রায় দেন আদালত। বিচারকেরা জানান, গ্রেফতারের এক বছরেরও বেশি সময় পর শারীরিক হেফাজতের আবেদন করার পেছনে কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
এই মামলার শুনানির জন্য গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি হাশিম কাকার ও বিচারপতি সালাহউদ্দিন পানহোয়ার। তাদের রায়ে বলা হয়, পাঞ্জাব সরকার চাইলে বিষয়টি ট্রায়াল কোর্টে নতুন করে উপস্থাপন করতে পারে। তবে একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেন, ইমরান খানের আইনজীবীরা চাইলে এ ধরনের যেকোনো আবেদন চ্যালেঞ্জ করার অধিকার রাখেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি হাশিম কাকার বলেন, “আসামিকে গ্রেফতারের দেড় বছর হয়ে গেছে — এই পর্যায়ে শারীরিক রিমান্ডের প্রশ্নই আসে না।” পাঞ্জাব সরকারের পক্ষে এই রিমান্ড আবেদনের যুক্তি ছিল যে, ইমরান খানের ছবি, ভয়েস-ম্যাচিং, পলিগ্রাফ এবং অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষা তদন্তের জন্য জরুরি।
তবে বিচারপতিরা সেই যুক্তিকে গ্রহণ করেননি। বিচারপতি কাকার স্পষ্ট করে বলেন, “এই আবেদন শুধুমাত্র শারীরিক রিমান্ড সম্পর্কিত, ফরেনসিক পরীক্ষার নয়।” অন্য বিচারপতি সালাহউদ্দিন পানহোয়ার প্রশ্ন তোলেন, “এ ধরনের পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা কোথায়?” তিনি বলেন, “খুন কিংবা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধেও এমন পরীক্ষা করা হয়নি। আশা করি, রাষ্ট্র সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এমন আগ্রহ দেখাবে।”
সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য অনেকেই সরকারকে এক ধরনের পরোক্ষ ভর্ৎসনা হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, সরকার উচ্চ প্রোফাইল রাজনৈতিক মামলাগুলোর প্রতি যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে, তার তুলনায় সাধারণ নাগরিকেরা বিচার প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা ও অবহেলার শিকার হন।
এই রায় এমন এক সময় এসেছে যখন ইমরান খান দুর্নীতি, সহিংসতায় উসকানি ও অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে কারাবন্দি রয়েছেন। চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতে গুঞ্জন ওঠে যে, সরকার ইমরান খানকে আরও কিছু ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনতে চায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তার আইনজীবীদের সমালোচনার মুখে পড়ে, যারা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তদন্তের এই পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করেন।
সুপ্রিম কোর্টের এ রায় তাৎক্ষণিকভাবে পাঞ্জাব সরকারের পক্ষে ইমরান খানকে শারীরিক হেফাজতে নেওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন যদি কোনো নতুন ভিত্তিতে আবেদন করা হয়, তবে সেটি ট্রায়াল কোর্টে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় আদালতের বিচারিক স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলাগুলোর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাড়তে থাকা নজরদারির স্পষ্ট প্রতিফলন। আদালতের এমন রায় ভবিষ্যতে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।

