সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমানে একটি মাত্র ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম চললেও নতুন আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলে বিচার প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে। সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, বিশেষ করে ২০২৩ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর বিচার নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রসিকিউশনের কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে বর্তমানে প্রসিকিউশন টিমে ১৭ জন প্রসিকিউটর কাজ করছেন। অন্যদিকে তদন্ত সংস্থায় রয়েছেন মোট ২৪ জন তদন্ত কর্মকর্তা।
প্রসিকিউশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে মোট তিন শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। তদন্ত সংস্থার কমপ্লেইন্ট রেজিস্টার অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৯টি অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম চলমান। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ‘মিস কেইস’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ২২টি অভিযোগ যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪১ জন।
এই ১৪১ জন অভিযুক্তের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে আর বাকি ৮৭ জন পলাতক অবস্থায় রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে বিচারিক কাঠামো আরও সুসংহত ও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন এ উদ্যোগ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

