বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ সাফিনুল ইসলাম, তার স্ত্রী সোমা ইসলাম ও ছেলে সামিন ইসলামের নামে থাকা ৫৬টি ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি দুর্নীতি দমন আদালত। এসব হিসাব ও সঞ্চয়পত্রে মোট অর্থের পরিমাণ ১০ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৫৩ টাকা।
২৩ এপ্রিল, মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী ফ্রিজ হওয়া এসব অ্যাকাউন্টে সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ডিপিএস, লকার ও ক্রেডিট কার্ড হিসাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই নির্দেশনার জন্য আবেদন করে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সংস্থার উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম আদালতে এ-সংক্রান্ত আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। এ অনুসন্ধান চলাকালে বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সাফিনুল ও তার পরিবার এসব ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্রে থাকা অর্থ হস্তান্তর বা স্থানান্তরের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে জন্যই এই সম্পদ ফ্রিজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা যে অর্থের মালিক, তা আইনসম্মত উপায়ে উপার্জিত নয়— এমন প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাই এই অস্থাবর সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি।
এর আগে গত ১৩ মার্চ একই আদালত সাফিনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সোমা ইসলামের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতেই এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় যাতে তারা দেশের বাইরে গিয়ে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারেন।
সাবেক এই উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দেশের উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিষয়কে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। রাষ্ট্রীয় পদে থাকা অবস্থায় কোনো কর্মকর্তার এমন আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ সমাজে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ ধরনের পদক্ষেপ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সম্পদের উৎস যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

