ঢাকার মিরপুরে গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপি কর্মী মাহফুজ আলম শ্রাবণ (২১) নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪০৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ঢাকার দুই সাবেক মেয়র, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তারা।
এ মামলা গত ২০ এপ্রিল দায়ের করেন নিহত শ্রাবণের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পী। তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালতে এ অভিযোগটি দাখিল করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মিরপুর মডেল থানার ওসিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। এই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন – সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, তাজুল ইসলাম, হাছান মাহমুদ, কামরুল ইসলাম, ফারুক খান, আসাদুজ্জামান নূর, জাহিদ মালেক স্বপন, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, নূরে আলম চৌধুরী লিটন, সাবের হোসেন চৌধুরী, লোটাস কামাল, নওফেল চৌধুরী, শাজাহান খান, আব্দুর রাজ্জাক, শেখ হেলাল, তারানা হালিম, সানজিদা খানম, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, শামীম ওসমান, নাজমুল হাসান পাপন, কাজী নাবিল আহমেদ, এ কে আজাদ, তারেক সিদ্দিকী, তৌফিক এলাহী, গওহর রিজভী, মশিউর রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, পরিচালক সাদাত সোবহান তানভীর, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, মোহাম্মদ মইনদ্দিন আব্দুল্লাহ, এশিয়াটিক ৩৬০ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অভিনেতা ইরেশ যাকের, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
এছাড়া, সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন – ইকবাল সোবহান চৌধুরী, শাবান মাহমুদ, আরিফ হাসান, মোজাম্মেল হক বাবু, নাইমূল ইসলাম খান, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, নঈম নিজাম, সুভাষ সিংহ রায়, শ্যামল দত্ত, ফারজানা রুপা, মুন্নী সাহা, জ ই মামুন, শাকিল আহমেদ, মিথিলা ফারজানা, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, হারুন উর রশীদ, নাসিরুদ্দীন সাথী, নবনীতা চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, ওমর ফারুক, শফিকুর রহমান, ফরিদা পারভীন, মাসুদা ভাট্টি।
আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন – সৈয়দ রেজাউর রহমান, নজিবুল উল্যাহ হিরু এবং দুদকের সাবেক প্রসিকিউটর খুরশীদ আলম খান ও মোশাররফ হোসেন কাজল। একইসঙ্গে সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ, কে এম নূরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং ইসির তিন সাবেক সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে যে, বিএনপি কর্মী মাহফুজ আলম শ্রাবণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় এতে অংশ নেন। ঘটনার দিন ৫ আগস্ট দুপুরে বেলা আড়াইটার দিকে ছাত্রজনতার একটি মিছিল মিরপুর শপিং কমপ্লেক্স ও মিরপুর মডেল থানার মধ্যবর্তী রাস্তা দিয়ে স্লোগান দিতে দিতে যাচ্ছিল। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী। এ সময় আসামিদের নির্দেশে তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ মিছিলে অতর্কিত আক্রমণ চালায়।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, তারা সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট, রাইফেল, শটগান, পিস্তলের গুলি ছুড়ে এবং ককটেল ও হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন মাহফুজ আলম শ্রাবণ। আহত অবস্থায় তাকে রিকশায় করে মিরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

