নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়কে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দ্রুত দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ঘোষণার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ঢাকার দুই বাসিন্দা। একই সঙ্গে তাকে শপথ পড়ানো এবং তার নামে গেজেট প্রকাশ থেকে বিরত থাকার দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে।
গত ২৭ এপ্রিল, রোববার এই নোটিশ পাঠান ঢাকার কাকরাইলের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. মামুনুর রশিদের পক্ষে আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান। ওই দিন রাতেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে।
আইনজীবী মনিরুজ্জামান জানান, নোটিশটি পাঠানোর পরপরই গেজেট জারি হয়। তাই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এখন নোটিশদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই দেওয়া হয়েছে এবং আশা ছিল নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে আপিল করবে। কিন্তু কমিশন তা না করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করেছে। এমনকি আইন উপদেষ্টার বক্তব্য অনুসারে, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত না নিয়েই এই গেজেট জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের রায়ের কার্যকারিতা থাকার কথা নয়, কারণ মেয়রের মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছিল।”
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনের ফল বাতিল করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলে নূর তাপসের বিজয় বাতিল করেন এবং বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে বৈধ বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন।
রোববার পাঠানো নোটিশের অনুলিপি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম এবং ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের বরাবর পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং আইনি প্রক্রিয়া ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়র পদে শপথগ্রহণ বা দায়িত্ব নেওয়ার আগে আইনি জটিলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় তা প্রশাসনিক অস্থিরতা ও আইনগত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

