আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর বনশ্রী এলাকার মেরাদিয়া বাজারের পূর্ব পাশে খাল পাড়ের খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানো নিয়ে তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, কেন এই হাট বসানো বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং কেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ইজারা বিজ্ঞপ্তির ৯ নম্বর কলাম থেকে এ স্থান সংক্রান্ত অংশটি বাদ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহব উদ্দিন শিকদার হাট বসানোর বৈধতা নিয়ে রিট করেন। তার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ ও জহিরুল ইসলাম।
রিটের পেছনে মূল যুক্তি ছিল, বনশ্রী একটি আবাসিক এলাকা এবং খালপাড় সংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গায় গরুর হাট বসালে জনদুর্ভোগ বাড়বে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকবে। আইনজীবী জহিরুল ইসলাম জানান, আবাসিক এলাকায় গরুর হাট বসানোর কোনো বৈধতা নেই, তা সত্ত্বেও ডিএসসিসি ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে খালপাড় সংলগ্ন ওই খালি জায়গায় হাট বসানো হবে। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে গত সোমবার রিট দায়ের করা হয় এবং পরদিন হাইকোর্ট তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা ও রুল জারি করে।
ডিএসসিসি গত ২১ এপ্রিল যে ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তাতে ৯ নম্বর কলামে ‘মেরাদিয়া বাজারের পূর্ব পাশে খাল পাড়ের খালি জায়গা’কে পশুর হাটের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই অংশের বৈধতা নিয়েই রিট আবেদন করা হয়।
জারি করা রুলে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছে, কেন এই স্থানকে হাটের জন্য নির্ধারণ বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং কেন ইজারা বিজ্ঞপ্তি থেকে ৯ নম্বর কলামটি বাতিল করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ডিএসসিসির প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এই আদেশের মাধ্যমে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিবেশ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পশুর হাট নির্ধারণে অধিক সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

