নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জুলাই মাসে গণআন্দোলনের সময় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার, ৩০ এপ্রিল প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যবিশিষ্ট বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন টিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল ভবনের বাইরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাদের সবাই জুলাই-আগস্টে নারায়ণগঞ্জে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, “আসামিরা সবাই অস্ত্রধারী ছিলেন এবং এই ঘটনার সময় তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জে জুলাই ও আগস্টে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এই ঘটনায় কুখ্যাত শামীম ওসমান এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।”
চিফ প্রসিকিউটরের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সবাই আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের অস্ত্রধারী সদস্য। এর আগে থেকেই শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল বলে জানান তিনি। তবে যাদের বিরুদ্ধে নতুনভাবে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তদন্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
আদালত থেকে পাওয়া এই নির্দেশনার ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। বিষয়টি নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

