কক্সবাজারের কলাতলীতে ৩৯.৭৮ একর জমি ২০১৮ সালে সরকারিভাবে খাস ঘোষণা করা হয়। কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত এই জমির দখল রোধে জেলা প্রশাসন একযোগে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তবে রাতের আঁধারে কিছু দখলদার অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসব দখলদারদের আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে। স্থানীয়রা জানায়, সুগন্ধা পয়েন্টের জমির ওপর প্রভাবশালী মহলটির নজর রয়েছে এবং তারা একাধিকবার জাল দলিল দিয়ে দখল করার চেষ্টা করেছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, “এ জমি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন। কোনো ভুয়া দলিল দিয়ে সরকারি জমি দখল করতে দেওয়া হবে না। যেকোনো ধরনের দখলের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।” তিনি আরো জানান, সুগন্ধা পয়েন্টে নির্মাণ কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল কিন্তু তা উপেক্ষা করে সেখানে নির্মাণ কাজ চলছে। খবর পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানার নেতৃত্বে দ্রুত অভিযান চালানো হয় এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জমির বিরুদ্ধে সাচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত নামে এক ব্যক্তি রিট করেছিলেন। ২০২৪ সালে ভূমি অফিস সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট ১০ নভেম্বর তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্থগিতাদেশ বৃদ্ধির জন্য পিটিশন দাখিল করা হয়, তবে তা এখনো কার্যকর হয়নি।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জানতে পারে যে, জমিতে মাটি ভরাট ও বেইজ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। পরিদর্শনে গিয়ে তারা নির্মাণকাজ দেখতে পায়। কউক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দখলদাররা নির্মাণকাজ চালানোর জন্য অনুমোদিত নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয়। এরপর তাদের সব ধরনের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে যে, সাচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত কউক কর্মকর্তাদের চাপ দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট তৈরি করতে বলেছিলেন। পরে তার কাগজপত্রে জালিয়াতি ও অসংগতির প্রমাণ পাওয়া যায়। এই ঘটনা পর্যালোচনা করে কউক কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসকের কাছে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সুগন্ধার জমিতে কাজ বন্ধ করে দখলদারদের সতর্ক করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যে রায় এসেছে, ওই জমি সরকারের মালিকানাধীন এবং সেখানে কোনো কাজ করা যাবে না।”
কক্সবাজারে সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে নানা আইনি জটিলতা চলমান থাকলেও প্রশাসন এই অপচেষ্টা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

