চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ মে) চট্টগ্রামের ৬ষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন এ সংক্রান্ত পুলিশের আবেদনের শুনানি শেষে আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী। তিনি জানান, আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। বিচারক সে আবেদন মঞ্জুর করেছেন। নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় চিন্ময়কে আদালতে সরাসরি হাজির না করে কারাগার থেকে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে তাকে যুক্ত করা হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া চারটি মামলার মধ্যে একটি হলো আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা। বাকি তিনটি মামলা পুলিশের কাজে বাধা প্রদান, বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ওপর হামলা এবং সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের হয়েছে। সোমবার আদালতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হত্যা মামলার শুনানি সম্পন্ন হলেও, অন্য তিনটি মামলার শুনানি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি ইসকনের বহিষ্কৃত সংগঠক এবং ‘সনাতনী জাগরণ জোট’ নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের পরদিন, ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই নির্দেশ ঘিরে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। চিন্ময়ের শতাধিক অনুসারী আদালত চত্বরে তাণ্ডব চালায় এবং প্রায় তিন ঘণ্টা তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আটকে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিচার্জ এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষ আদালত এলাকা ছাড়িয়ে লালদিঘীর পাড় ও কোতোয়ালি থানার আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এই সহিংসতার মধ্যেই নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও কয়েকজনকে প্রধান আসামি করা হয়।
চট্টগ্রামে একের পর এক সহিংস ঘটনার পেছনে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ও তার অনুসারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যাসহ একাধিক মামলার তদন্ত চলছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলাতেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

