চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার সূত্র ধরে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে এবার আরও চারটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (৬ মে) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ নির্দেশ দেন। এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগার থেকে ভার্চুয়াল শুনানিতে আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগের দিন সোমবার (৫ মে) আদালত আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছিল। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, আইনজীবী আলিফ হত্যার দিন আদালত এলাকা ও আশপাশে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় মোট পাঁচটি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা এবং বাকি চারটি নাশকতার অভিযোগে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা এই চার মামলাতেও চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আটক করে। পরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চিন্ময়ের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসকনের অনুসারীরা চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পরে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের মসজিদ, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়।
ওইদিন বিকেলে আদালতের প্রধান ফটকের বিপরীতে রঙ্গম কনভেনশন হলের পাশে গলিতে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম (আলিফ)। তার বাবা জামাল উদ্দিন ২৯ নভেম্বর রাতে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে ওইদিনের সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ ও অন্যান্য ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে আরও চারটি মামলা দায়ের করেন।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে এই সব মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে তদন্ত চলছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

