বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে বাতিল হওয়া নিবন্ধন পুনরায় ফিরে পেতে দায়ের করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৩ মে, মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ৭ মে, বুধবার এ আদেশ দেয়। ওইদিন আদালতে মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানান জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১২ মার্চ থেকে আপিল শুনানি শুরু হলেও দীর্ঘদিন তা স্থগিত ছিল। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর জামায়াতের পক্ষ থেকে নিবন্ধন বাতিল নিয়ে করা আপিল পুনরুজ্জীবনের আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। এর ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে দলটির নিবন্ধন ও প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফিরে পাওয়ার আইনি লড়াইয়ের পথ উন্মুক্ত হয়। সেই সময় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ জামায়াতের পক্ষে এ আদেশ দেয়। জামায়াতের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার এহসান এ. সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট শিশির মনির, আর রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর জামায়াতের বাতিল হওয়া নিবন্ধন পুনরায় কার্যকর করতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদনের শুনানির জন্য ২২ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছিলেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত।
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলে আসছে। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট এক রিটের রায়ে দলটির নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে। এর পাঁচ বছর পর, ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর জামায়াত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করে। কিন্তু ২০২৩ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ শুনানিতে দলটির মূল আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ আদেশে আপিলটি খারিজ করে দেয়। ফলে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে এবং জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকে।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবেও জামায়াত ছিল চাপে। ২০২৩ সালের ১ আগস্ট, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার সরকার জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারা অনুসারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জামায়াত, ছাত্রশিবির ও তাদের অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে। তবে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ২৮ আগস্ট সরকার ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে জামায়াত ও শিবিরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার সম্ভাব্যতা এবং এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দেশের রাজনীতি ও বিচার অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আপিল বিভাগের ১৩ মে’র শুনানিকে কেন্দ্র করে আবারো আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।

