রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এবং তার সহযোগী এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রায় চার বছর আগে দায়ের করা এই আলোচিত মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি হলো।
বুধবার, ৭ মে, ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান মজুমদারের আদালতে মামলার বাদী র্যাব-১ এর তৎকালীন ডিএডি আব্দুল খালেক সাক্ষ্য প্রদান করেন। আদালত তার সাক্ষ্য শেষে আগামী ১৫ জুন পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সম্পর্কে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, এদিন মামলার বাদী হিসেবে আব্দুল খালেক আদালতে সাক্ষ্য দেন এবং বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৫ জুন দিন ধার্য করেন।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের দাখিল করা অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। ওই দিন আদালত তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন। তবে সেসময় সম্রাট ও আরমান অসুস্থ থাকার কথা জানিয়ে তাদের আইনজীবীরা সময় প্রার্থনা করেছিলেন।
মামলার পেছনের ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভোরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে একই দিন দুপুরে সম্রাটকে নিয়ে রাজধানীর কাকরাইলে তার কার্যালয়ে অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, একটি পিস্তল এবং বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। ওই চামড়া রাখার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। রাতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরদিন, ৭ অক্টোবর বিকেলে র্যাব-১ এর তৎকালীন ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর র্যাব-১ এর উপপরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক অস্ত্র মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর ৯ ডিসেম্বর মাদক মামলায় সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১ এর উপপরিদর্শক আ. হালিম।
দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় থাকা এই মামলায় অবশেষে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। এখন অপেক্ষা আগামী জুনে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখে পরবর্তী সাক্ষীদের বক্তব্য এবং মামলার অগ্রগতির।

