বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের করা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে ডিএমপি কমিশনারের পক্ষে জারিকৃত এমন এক অফিস আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রেখেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার (৭ মে) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য আগামী ১৫ মে দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তিন মাসের জন্য ওই অফিস আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর বেঞ্চ থেকে দেওয়া এই আদেশে বলা হয়, আসামিদের গ্রেপ্তারে বাধ্যতামূলকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির যে শর্ত আরোপ করা হয়েছে তা আইনত বৈধ কিনা সে বিষয়ে আদালত একটি রুলও জারি করেছেন। এতে জানতে চাওয়া হয়, কেন ডিএমপি কমিশনারের পক্ষে স্বাক্ষরিত এই অফিস আদেশকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
হাইকোর্টে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গিয়ে আদেশ স্থগিতের আবেদন করে। সেই আবেদনের শুনানিতে আজ চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া আদেশই বহাল রাখলেন।
জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। এতে চ্যালেঞ্জ করা হয় ৯ এপ্রিল জারিকৃত সেই অফিস আদেশ, যেখানে বলা হয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সম্পর্কিত মামলাগুলোতে সাধারণত এজাহারনামীয় আসামির সংখ্যা বেশি থাকে। তাই এ ধরনের মামলায় গ্রেপ্তারের আগে ভিকটিম বা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ভিডিও/অডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, কললিস্ট বিশ্লেষণ (সিডিআর) ইত্যাদি প্রমাণসহ ডেপুটি কমিশনার বা তার ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ব্যতীত কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছিল অফিস আদেশে।
এই আদেশ ঘিরে আইন পেশাজীবীদের একটি মহল থেকে আশঙ্কা করা হয় যে, এতে মামলার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং গ্রেপ্তারে অযথা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে ডিএমপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় অধিক সংখ্যক আসামির বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার যেন না হয় সেজন্যই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এখন চূড়ান্ত শুনানির জন্য অপেক্ষা ১৫ মে, যখন আপিল বিভাগ পুরো বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবে গ্রেপ্তারে অনুমতির এই শর্ত থাকবে কি না। সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে।

