মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিল আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টার কিছু পরে শুরু হওয়া শুনানি প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিটে শেষ করেন আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এরপর থেকে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শুনানি শুরু হয়েছে।
আদালতে শুনানিকালে শিশির মনির বলেন, “আল্লাহর রহমতে ওনাকে (আজহার) বাঁচিয়ে না রাখলে আজকের দিনে আপনাদের কাছে এসে এই শুনানি করার সুযোগ পেতাম না। সময়ের প্রেক্ষিতে উনি বেঁচে আছেন আমরা এখন শুনানির সুযোগ পেয়েছি।” তিনি দাবি করেন, আগে তাদের বক্তব্য শোনা হয়নি তবে এবার তারা আদালতের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পেরেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনাদের অনেক ক্ষমতা রয়েছে। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”
এই আপিল মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ সাত সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চে শুনানি হচ্ছে যার নেতৃত্বে আছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষে শুনানি করছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী শিশির মনিরকে এ শুনানিতে সহযোগিতা করছেন অ্যাডভোকেট রায়হান উদ্দিন, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও আরও কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী। আদালতে এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেনসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানির এই গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন রাষ্ট্র ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য উপস্থাপনের পালা চলছে। জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকবে কি না তা নির্ধারণ করবে আপিল বিভাগ। মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে আদালতের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

