সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্রের উত্তর সরবরাহের অভিযোগে এক কেন্দ্র থেকে ১০ জন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার (৭ মে) দুপুরে খাষকাউলিয়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে। যেখানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার সময় এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকরা হলেন আকদাস হোসেন (৪০), রফিকুল ইসলাম (৫২), শরিফুল ইসলাম (৪৩), শফিকুল ইসলাম (৪৪), আবদুল বাতেন (৪৫), মো. আনোয়ার (৩৬), জাবের আলী (৪১), জাহাঙ্গীর আলম (৫১), মোস্তাক আহমেদ (৩৬) ও আবুল কালাম (৪১)। তারা সবাই স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার নির্ধারিত সময় চলাকালে খাষকাউলিয়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসার রসায়ন শিক্ষক আকদাস হোসেন পরীক্ষার ‘ক’ সেটের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর তৈরি করেন। এরপর সেই উত্তরপত্র কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষে পাঠিয়ে তা অন্যান্য শিক্ষকদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ আসলে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। সরেজমিনে উপস্থিত থেকে অভিযোগের সত্যতা পান তিনি এবং কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে পুলিশ ওই কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ১০ জন শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসে। চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, কেন্দ্র সচিব মো. নুরুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। যমুনা নদী–অধ্যুষিত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তারা থানা হাজতে আটক রয়েছেন এবং বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হবে।
ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যিনি মূল অভিযুক্ত তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন না। তবুও তিনি কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে তা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেছেন যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এই কাজে তাকে সহায়তা করেছেন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরও কয়েকজন শিক্ষক। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এমন ঘটনায় শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অভিভাবক মহলে। ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

