ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকারের নতুন সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে সাংবিধানিক সংকটকর ও দুর্নীতি সহায়ক বলে মন্তব্য করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই অধ্যাদেশটি সিএজির (মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক) সাংবিধানিক মর্যাদা খর্ব করছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিবৃতিতে টিআইবি জানিয়েছে, অধ্যাদেশটি সংবিধানের বিরুদ্ধে এবং সরকারি রাজস্ব নিরূপণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করবে। সংস্থাটি দ্রুত এই অধ্যাদেশ সংশোধন করে সিএজির স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছে।
সিএজির স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ-
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক মো. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এই অধ্যাদেশ সিএজির স্বাধীনতা হুমকির মুখে ফেলেছে। কিছু বিধান সিএজিকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলবে। এটি দুর্নীতি ও কর ফাঁকির সহায়ক হয়ে দাঁড়াবে।”
তিনি আরও বলেন, “অধ্যাদেশে বিধি প্রণয়ন, চুক্তি সম্পাদন, পদ-বিন্যাস, দপ্তর একীভূতকরণ এবং বিলুপ্তি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপ সিএজিকে কার্যত সরকারের অধীনে নিয়ে আসবে, যা সংবিধানের ১২৮(৪) অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে।”
রাজস্ব নিরূপণ ও আদায় থাকবে জবাবদিহির বাইরে-
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অধ্যাদেশে সিএজির জন্য রাজস্ব নিরূপণ ও আদায়কে নিরীক্ষার বাইরে রাখা হয়েছে। এতে রাজস্ব আদায় ও নিরূপণের ব্যাপারে কোনো জবাবদিহি থাকবে না।”
অধ্যাদেশ পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ-
তিনি অভিযোগ করেন, “টিআইবি যে সুপারিশ দিয়েছিল, তা উপেক্ষা করে অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। আমাদের প্রস্তাব ছিল সিএজির অধিকার নিশ্চিত করা হোক কিন্তু তা বাদ দেওয়া হয়েছে।”
কর ফাঁকি রোধে পদক্ষেপের অভাব-
তিনি আরও বলেন, “অর্থ বিভাগ সিএজির খসড়া থেকে রাজস্ব নিরূপণ ও নির্ধারণের বিধান বাদ দিয়েছে। এটি কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি করবে।”

