সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘জুলাই গণহত্যা’ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আগামী সোমবার, ১২ মে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুক্রবার (৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
পোস্টে তাজুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার এই মামলার তদন্ত কাজ শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এখন তা প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাষায়, “আশা করছি আগামী সোমবার চিফ প্রসিকিউটর বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ‘ফরমাল চার্জ’ গঠনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, চাঁনখারপুল হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত একটি মামলায় এরই মধ্যে কয়েকজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেই মামলায় চলতি সপ্তাহেই অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
সে সময় তিনি দাবি করেন, তদন্তের প্রায় শেষ ধাপে এসে স্পষ্ট হয়েছে যে এসব হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সংগঠিত হয়েছে এবং তা হয়েছে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধের আওতায়। শেখ হাসিনা এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তার মন্ত্রিসভার সদস্য, পুলিশ বাহিনী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সক্রিয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
এ সব তথ্যের ভিত্তিতে চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক-আইনি লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে।

