মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এ প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে আইনি জটিলতা নতুন মোড় নিয়েছে। হাইকোর্ট এই রিটটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে খারিজ করলেও সেটি আপাতত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে ‘নগদে’ প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত আবারও আইনি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
গত ৭ মে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের একক বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন এবং আবেদনকারীকে ওই সময়ের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করার নির্দেশ দেন। এই আদেশের ফলে প্রশাসক আপাতত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীরা। মঙ্গলবার এই আদেশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার কথা জানান রিট আবেদনকারী পক্ষের অন্যতম আইনজীবী জামিলুর রহমান।
প্রসঙ্গত ‘নগদ’-এ প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রিট দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র পরিচালক মো. শাফায়েত আলম। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রুল জারি করেন এবং জানতে চান ২০০৪ সালের ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তাব্যবস্থা আইন’-এর ৩১(১) ও (২) ধারা প্রতিপালন না করে কেন ২১ আগস্টের নিয়োগ আদেশটি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
এই রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রিট আবেদনকারী একাধিক সম্পূরক আবেদন করেন, যার মধ্যে প্রশাসকের নীতিগত কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। পরে, ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নগদে প্রশাসকের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন যা পরবর্তীতে বাড়ানো হয়। তবে চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন এবং রিটটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দেন। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, নগদ যেহেতু বাংলাদেশ ডাক বিভাগের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে তাই বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুসারে প্রশাসক নিয়োগ দিতে সক্ষম।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন শাফায়েত আলম, যা ৭ মে চেম্বার আদালতে ওঠে এবং শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে ‘নগদ’-এ প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা আবারও আলোচনায় এসেছে।
এখন চোখ আপিল বিভাগের ওপর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আপিল হলে, সেই শুনানির ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে ‘নগদ’-এ প্রশাসক থাকবে কিনা। তবে আপাতত স্থগিতাদেশের ফলে প্রশাসকের কার্যক্রম থমকে গেছে যা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

