নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯ লাখ ৮১ হাজার ২৯১ টাকা বকেয়া ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল না পরিশোধের অভিযোগে মানি স্যুট মামলা হয়েছে। এ মামলাটি ভবন মালিকের পক্ষ থেকে মো. শহিদুল ইসলাম দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা কার্যালয় স্থাপনের জন্য ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ চিটাগাংরোডের ফজর আলী গার্ডেন সিটি ভবনের মালিক মো. চাঁন মিয়ার সঙ্গে তিন বছরের জন্য অফিস ভাড়ার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ভবনের চতুর্থ তলায় ৪ হাজার ১১৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ও ২ হাজার ২১৫ বর্গফুট আয়তনের চারটি ইউনিট মাসিক ১ লাখ ৮১ হাজার ৬৫০ টাকা ভাড়ায় নেওয়া হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি থেকে তারা অফিস কার্যক্রম শুরু করেন।
তবে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও ভবন মালিকের অনুরোধ সত্ত্বেও বিবাদীরা তা নবায়ন করেননি। এর পরিবর্তে উপ-কর কমিশনার দিপা রানী হালদার ভবনে আরও তিন মাস থাকার জন্য অনুরোধ জানান এবং ভবন মালিক এতে সম্মত হন। কিন্তু পরে দেখা যায়, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৫ মাস ধরে অফিসটি ব্যবহার করেছেন কর্মকর্তারা। এ সময়ের মধ্যে কোনো ভাড়া বা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ৯ লাখ ৮১ হাজার ২৯১ টাকা বকেয়া হয়।
এরপর গত বছরের ৩০ মে বিবাদীরা কোনো পূর্বনির্ধারিত পরিশোধ ছাড়াই অফিস স্থানান্তর করে চলে যান সিদ্ধিরগঞ্জের আটি এলাকার ভূমি পল্লী আবাসিক এলাকার লেকভিউ টাওয়ারে। পাওনা টাকা আদায়ে ভবন মালিক বারবার তাগাদা দিলেও তারা ‘দেব দিচ্ছি’ বলে কালক্ষেপণ করেন। বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি বাদীপক্ষ একজন আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। এরপরও কোনো প্রতিক্রিয়া না পেয়ে বাদী ২৭ ফেব্রুয়ারি নিজে গিয়ে তাদের বর্তমান অফিসে পাওনা চেয়ে কথা বলেন। সেদিনও কর্মকর্তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে নিরুপায় হয়ে ২৮ এপ্রিল আদালতে মামলা করেন ভবন মালিকের প্রতিনিধি মো. শহিদুল ইসলাম।
বাদী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের পাওনা পরিশোধ না করেই তারা অফিস পরিবর্তন করতে চেয়েছিল। আমি বাধা দিয়েছিলাম। তখন দিপা রানী হালদার আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে দ্রুত সময়ে টাকা দিয়ে দেবেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি তাই মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।”
এ বিষয়ে কাস্টমস অফিসে গিয়ে জানা গেছে, যেসব কর্মকর্তার সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি হয়েছিল তারা বর্তমানে অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। মামলার বিষয়ে অবগত আছেন বলে স্বীকার করেছেন বর্তমান বিভাগীয় কর্মকর্তা মাধব বিকাশ দেব রায়। তিনি বলেন, “এই বিষয়গুলো আমার যোগদানের আগেই হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি এখন আদালতে তাই আমি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
উল্লেখ্য, মামলায় যেসব কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডেপুটি কমিশনার) মাধব বিকাশ দেব রায়, সহকারী কমিশনার মো. আব্দুল কাইয়ুম, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমান চৌধুরী, আব্দুল মান্নান তালুকদার, মো. নূরুল ইসলাম, দিপা রানী হালদার, মো. সোহেল রানা, আবুল কাশেম, পুরনজয় গোস্বামী, মো. ফারুক এবং ট্যাক্স ইন্সপেক্টর মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।
ভবনের চুক্তি লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই ধরণের মামলার ঘটনা সচরাচর দেখা না গেলেও এটি ব্যতিক্রম হিসেবে আলোচনায় এসেছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এখন আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

