ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁকে মেয়র ঘোষণা করা ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও জানানো হয়েছে রিটে।
বুধবার (১৪ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন ডিএসসিসির বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ। তাঁর পক্ষে রিটটি দাখিল করেন আইনজীবী কাজী আকবর আলী। আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন রিটের পক্ষে শুনানি করবেন। রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার, হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে।
২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে প্রায় পৌনে দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তবে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন ছিল।
চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম একটি রায়ে তৎকালীন ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। এই রায়ের ভিত্তিতে ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে পরামর্শ চায়। পরবর্তীতে ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইশরাক হোসেনকে নতুন মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের দাবি জোরালো হতে থাকে। এ দাবিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ‘ঢাকাবাসী’ নামের একটি সংগঠন। বুধবার দুপুরে গুলিস্তানে নগর ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
রিট আবেদনের মাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে যেহেতু গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট বিচারকের রায়ের আইনগত ভিত্তি এবং গ্রহণযোগ্যতা কতটা সংগত ছিল তা নিয়ে আদালতের নিরীক্ষা প্রয়োজন। পাশাপাশি আবেদনকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী রায় কার্যকর হওয়ার আগেই শপথ গ্রহণ হলে তা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনাপ্রবাহ দেশের স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো এবং নির্বাচন-পরবর্তী আইনি ব্যবস্থাপনার ওপর নতুন করে আলো ফেলেছে। একইসঙ্গে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিষয় হয়ে উঠতে পারে কোন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী রায় বাস্তবায়নযোগ্য এবং কতটা দ্রুত তা কার্যকর হওয়া উচিত।
বর্তমানে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল। রিটের শুনানিতে কী নির্দেশনা আসে সেটির ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

