বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা আরও ২৭ জন আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকাল ১০টার পর থেকে তারা পর্যায়ক্রমে কারাগার থেকে বের হন। মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা কারা ফটকে উপস্থিত থেকে তাদের বরণ করে নেন।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ আল মামুন। তিনি জানান, জামিনে মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১২ জন, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ থেকে ৫ জন এবং পার্ট-২ থেকে ১০ জন রয়েছেন।
জামিনের আদেশটি আসে গেল সোমবার (১২ মে), যখন ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের (প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ) বিচারক ইব্রাহীম মিয়া বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ৪০ জন আসামির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এই মামলাটি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছিল।
এর ধারাবাহিকতায় জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে বুধবার সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ থেকে ৫ জন, পার্ট-২ থেকে ১০ জন এবং হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে ১১ জন মুক্তি পান। এর আগের দিন, মঙ্গলবার একই মামলায় আরও এক সাবেক বিডিআর সদস্য মুক্তি লাভ করেন।
জেল সুপার আল মামুন জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের তিনটি কারাগারে বন্দি থাকা ২৭ জন আসামির জামিনের আদেশের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছে। কাগজ যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার সকালে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া ১৭৮ জন আসামিও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১৮ জন আসামি জামিন পেলেন।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ বহু মানুষ নিহত হন। এই ঘটনার জের ধরে বিভিন্ন আইনে শত শত আসামির বিরুদ্ধে মামলা হয়, যার মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাও একটি।

