২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের দায়ের করা নির্বাচনী মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আইনি দিকগুলো। রায় অনুযায়ী, ইশরাক হোসেনকে বৈধভাবে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করা হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল করেনি। ফলে এতে কোনো আইনগত জটিলতা আছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য আইন ও বিচার বিভাগকে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
১৫ মে (বৃহস্পতিবার) পাঠানো চিঠিটি স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষর করেন। “মতামত প্রদানসংক্রান্ত” শিরোনামে পাঠানো এ চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো আইনি বাধা বা জটিলতা রয়েছে কি না, তা জানাতে হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী করা হলেও তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি, ফলে মামলার রায় একতরফা হয়েছে। এমনকি মামলার আরজি সংশোধন সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ও আমলে না নিয়েই ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে। বিষয়টি এরই মধ্যে হাইকোর্টে রিট আকারে চ্যালেঞ্জ হয়েছে।
চিঠিতে এ-ও তুলে ধরা হয়, অনুরূপ এক ঘটনায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের এক পরাজিত মেয়র প্রার্থীর আবেদন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে খারিজ হয়ে গেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়রদের মেয়াদকাল–সংক্রান্ত যে জটিলতা তৈরি হতে পারে, তাও বিবেচনায় নিয়ে আইনগত দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিশেষ করে আপিল না করার সিদ্ধান্ত এবং মামলার একতরফা নিষ্পত্তি, নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো বিষয়টি স্পষ্ট আইনি পর্যালোচনা ছাড়া নিষ্পত্তি হলে তা ভবিষ্যতে নজির হয়ে উঠতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ও মেয়াদকাল সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনাতেও।
আইন ও বিচার বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

