প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিধান বাস্তবায়ন না করায় দায়ীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের আদেশের জন্য আগামী রোববার (২১ জুলাই) দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (১৬ জুলাই) রিটটি উত্থাপিত হলে বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের দিন ঠিক করেন।
এই রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন। ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি রিট আবেদনটি দাখিল করা হয়। পরে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি একটি সম্পূরক আবেদন করেন। এসব আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ২০২১ সালের ১০ মার্চ আদালত রুল জারি করেন।
রুলে জানতে চাওয়া হয়, যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, প্রতিটি ট্রেনের কামরায় শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য কিছু আসন সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। রুলে আরও জানতে চাওয়া হয়, নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে নির্দিষ্ট কামরা সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনের দুটি ধারা (রেলওয়ে আইন ৬৪ ও ১১৯) বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। রেলসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ঢাকার জেলা প্রশাসকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটের ধারাবাহিকতায় ১ জুলাই আদালত শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন। আজ রিটটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ৮৫৭ নম্বরে ওঠে। রিটকারীর আইনজীবী আজমল হোসেন বলেন, ‘আজ সকালে আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করি। আদালত আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ঠিক করেছেন।’
আইনজীবী আরও জানান, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারায় প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা রাখার বিধান রয়েছে। আর ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণকারী ট্রেনে এসব কামরায় শৌচাগার সংযুক্ত রাখার কথাও উল্লেখ আছে। ওই কামরায় বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে ১১৯ ধারায় জরিমানার বিধান আছে। এই দুটি ধারা বাস্তবায়ন না হওয়ায় রিটটি করা হয়।

