গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার পর পরিস্থিতি এখনও থমথমে। গত ১২ ঘণ্টায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আরও ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ফলে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫-এ।
বুধবার অনুষ্ঠিত এনসিপি’র “জুলাই পদযাত্রা” কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, পদযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের লোকজন হামলা চালায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে তা রূপ নেয় সরাসরি সংঘর্ষে।
এনসিপি’র ওপর হামলার ঘটনায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলাজুড়ে জারি করা হয়েছে কারফিউ। যদিও আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাময়িক শিথিল করা হয়েছে কারফিউ, তবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে আবার তা কার্যকর হচ্ছে। ভবিষ্যতে কারফিউ আরও বাড়ানো হবে কিনা—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
কারফিউ চলাকালীন মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না বললেই চলে। শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা। মোড়ে মোড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব। সেনাবাহিনীও দায়িত্ব পালন করছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।
গোপালগঞ্জের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি দাবি করেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করা যায়।

