গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় কমপক্ষে ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৬৭ জন মুকসুদপুর এবং ২৩ জন কাশিয়ানী উপজেলা থেকে আটক হন।
মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আবদুল বাচ্চেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি কাশিয়ানী থানায় গাছ কেটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধের অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. সাজেদুর রহমান জানান, পরিদর্শক আহমেদ আলী গতকাল রাতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এনসিপি’র সমাবেশে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর ও হামলা চালানো হয়। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে কাশিয়ানী থানার উপপরিদর্শক আলিমুল হুদা জনি আরেকটি মামলা করেন। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্পান হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের কাছে মহাসড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। এ ঘটনায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের অনেকে নামেও পরিচিত।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুকসুদপুরের অন্তত চারজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেক বাসিন্দা এলাকা ছেড়েছেন।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন,
“আমার ইউনিয়ন থেকে কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে তা সঠিক জানি না। তবে আমাদের একজন ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন।”
তিনি নিজেও গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে গেছেন বলে জানান।
এর আগে বুধবার (১৬ জুলাই) গোপালগঞ্জে এনসিপি সমাবেশে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। দিনভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত চারজন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা চালিয়ে সমাবেশস্থল ভাঙচুর করে।
এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে।

