বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনে সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। গত বুধবার (১৬ জুলাই) সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলায় প্রয়াত ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ‘পাওয়ারের ব্যালেন্স’ প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। আমরা পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব। তিনি আরও বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ফলে বিচার বিভাগকে অপকর্মের লাইসেন্স দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সময়কালে বিচারবহির্ভূতভাবে সাড়ে চার হাজার মানুষ হত্যা এবং সাত শতাধিক গুমের ঘটনা ঘটে। আমরা এমন বিচার ব্যবস্থা চাই না।”
এরপর হাইকোর্ট জানতে চান, “তাহলে কি আপনারা (সরকার) বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনে সম্মত?” জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল সম্মতির ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমরা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করতে চাই।” তিনি অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আদালতের কাছে সময় চান। আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেন ৪ আগস্ট এবং জানান, মামলাটির শুনানি আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই শেষ করতে চায় আদালত।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। সেদিন রিটের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় বিচারকদের ওপর প্রভাব খাটানো হয়। কথা না শুনলে বদলি করে বান্দরবান পাঠানো হয়।” এর আগে সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন।
বর্তমান সংবিধানের সংশোধিত ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে অধস্তন আদালতের দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটদের কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি ও শৃঙ্খলাবিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর থাকবে। তবে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে বলা হয়েছিল, বিচার বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর থাকবে।
এই পরিবর্তনের ফলে বিচার বিভাগের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব রয়েছে— যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

