গোপালগঞ্জ এখন যেন টান টান উত্তেজনার শহর। রাজনৈতিক কর্মসূচি, সংঘর্ষ, কারফিউ—সব মিলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। আজ রবিবার, ২০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ জেলায় নতুন করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার রাতে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান এই নির্দেশনাটি জারি করেন।
জেলা প্রশাসনের এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আওতায় জেলার যেকোনো এলাকায় একাধিক ব্যক্তির জমায়েত, সভা, মিছিল বা সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থী, জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অফিসের চলাচল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মুন্সি জানান, “শনিবার রাত ৮টা থেকে আজ রবিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি ছিল। কারফিউ শিথিল হওয়ার পর এখন ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে, যা আজ রাত ৮টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।”
এর আগে, গত বুধবার গোপালগঞ্জমুখী ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষও ঘটে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায়, শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পরে শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কিছুটা শিথিলতা আনা হয়। আর আজ রবিবারের জন্য নতুন করে জারি করা হলো ১৪৪ ধারা।
সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। দোকানপাট আংশিক খোলা, রাস্তাঘাটে মানুষ কম। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও পরীক্ষার্থীরা বিশেষ অনুমতিতে চলাচল করতে পারছে। অনেকেই বলছেন, রাজনীতির উত্তাপ গোপালগঞ্জের সাধারণ জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি থমকে দিয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই নতুন সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কতটা কার্যকর হয়। তবে আপাতত গোপালগঞ্জবাসীর জীবনে ফের নেমে এসেছে নিষেধাজ্ঞার ছায়া।

