খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বয়রা এলাকায় ভেজাল মদ পানে একদিনে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, মৃত্যুর পেছনে ওই মদ দায়ী। প্রধান সন্দেহভাজন হলেন এলাকার এক কথিত হোমিও চিকিৎসক শেখ মোসলেম আলি (৭৮), যাকে গত শনিবার দিবাগত রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মোসলেম আলি মাতৃশোধন হোমিও ফার্মেসি নামে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন। দোকানের আড়ালে নিজের বাসায় মদ তৈরি করতেন। এলকোহল, ঘুমের ওষুধ এবং চুনের পানি মিশিয়ে হ্যাঁত তৈরি মদ বিক্রি করতেন। গত শনিবার (১৯ জুলাই) গভীর রাতে ফার্মেসিতে তল্লাশি করে পুলিশ প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়। এর আগেও মোসলেম আলিকে মদ বিক্রির দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু জামিনে বের হয়ে আবারও ব্যবসা চালিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আবু তারেক বলেন, “আড়ংঘাটা থানার পূর্ব বিল পাবলা মদিনা নগরের একটি ঘেরে কয়েকজন ওই মদ পান করেন। পরে অসুস্থ হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার রাতে একজন ও শনিবার চারজন মারা গেছেন।”
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা পাবলিক কলেজের দ্বিতীয় গেটের সামনের বাসিন্দা তোতা মিয়া, যিনি শুক্রবার রাতে মারা যান। তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। এছাড়া শনিবার বয়রা এলাকায় গৌতম, সাহাবুদ্দিন সাবু, আফরোজ হোসেন বাবু এবং সাজ্জাদ নামে আরও চারজনের মৃত্যু ঘটে।
এদিকে মদ পানে গুরুতর অসুস্থ বয়রা দাশপাড়া এলাকার সনু খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি আকিজ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন।

