২০০৬ সালের ১১ জুলাই মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেন বিস্ফোরণে দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামিকে মুম্বাই হাইকোর্ট খালাস দিয়েছে। ওই বিস্ফোরণে ১৮৯ জন নিহত হন এবং ৮০০ এর বেশি আহত হয়েছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি আজ এই খবর জানিয়েছে।
২০১৫ সালে বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই ১২ জনের মধ্যে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। কিন্তু মুম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি অনিল কিলো ও বিচারপতি শ্যাম চন্দকের বেঞ্চ ট্রায়াল কোর্টের রায় বাতিল করে জানিয়েছে, প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, ‘আসামিরা এই অপরাধ করেছে এমন বিশ্বাস করা কঠিন।’ তাই তাদের দণ্ড বাতিল করা হলো। পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে, অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না হলে তাদের মুক্তি দিতে হবে।
হাইকোর্ট বলেছে, প্রসিকিউশনের ব্যর্থতার কারণে আসামিদের ‘সন্দেহের সুবিধা’ দেওয়া হয়েছে। আদালত সন্দেহ প্রকাশ করেছে যে বিস্ফোরণের ১০০ দিন পর কোনো ব্যক্তি সন্দেহভাজন কাউকে চিনতে পারবে কি না। তদন্তে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মানচিত্রের সঙ্গে বিস্ফোরণের কোনো সরাসরি সংযোগ প্রমাণিত হয়নি। প্রসিকিউশন কী ধরনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছে সেটিও প্রমাণ করতে পারেনি।
২০০৬ সালের ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট থেকে ৬টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে মুম্বাইয়ের সাতটি লোকাল ট্রেনে একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বোমাগুলো ফার্স্ট ক্লাস কামরায় রাখা ছিল। বিস্ফোরণ ঘটে মাতুঙ্গা রোড, মাহিম জংশন, বান্দ্রা, খার রোড, জোগেশ্বরী, ভাইয়ন্দর ও বোরিভালি স্টেশনের কাছে।
২০১৫ সালের রায়ে মহারাষ্ট্রের বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আদালত ফয়সাল শেখ, আসিফ খান, কামাল আনসারি, এহতেশাম সিদ্দিকি ও নাভিদ খানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। মোহাম্মদ সাজিদ আনসারি, মোহাম্মদ আলি, ড. তানভির আনসারি, মাজিদ শফি, মুজাম্মিল শেখ, সোহেল শেখ ও জামির শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে তারা সবাই মুক্তি পাচ্ছেন।

