ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির নাম বহুবার এসেছে আলোচনায়—কখনো বিনিয়োগ জালিয়াতি, কখনো অনিয়মের অভিযোগে। এবার সরাসরি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আতাউল কবির। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।
দুদকের মামলার নথি বলছে, রাজধানীর তোপখানা রোডে একটি জমি ও ভবন কেনাবেচার নামে একটি চক্র ২০৭ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন করে। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, এই লেনদেন পুরোপুরি ছিল ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মাধ্যমে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা কোম্পানির তহবিল থেকে তুলে নিয়ে ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নজরুল ইসলাম ও পরিচালক এম এ খালেক মূল কারিগর। তারা এই অর্থ আত্মসাতের পুরো ছক তৈরি করেন। পরে সেই টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে রয়েছে তাঁদের আত্মীয়-স্বজন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনের নাম।
এ মামলায় যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ফারইস্ট ইনস্যুরেন্সের সাবেক পরিচালক হেলাল মিয়া, নাজনীন হোসেন, খন্দকার মোস্তাক মাহমুদ, কে এম খালেদ, রাবেয়া বেগমসহ আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি।
সব মিলিয়ে অভিযোগ বলছে, একটি প্রতিষ্ঠানের আস্থা ও জনগণের অর্থকে ব্যবহার করে ধাপে ধাপে তৈরি করা হয়েছে একটি দুর্নীতির জাল। শুধু অনিয়ম নয়, অর্থ পাচারের চেষ্টাও হয়েছে এই টাকার মাধ্যমে।
দুদক বলছে, এই মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন এবং ফৌজদারি দণ্ডবিধির একাধিক ধারা লঙ্ঘন হয়েছে। অর্থাৎ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শুধু অর্থ আত্মসাৎ করেননি—তারা সেই অর্থের উৎস, ব্যবহার ও অবস্থান গোপন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধও করেছেন।
এই মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হলে বাংলাদেশের বীমা খাতের আরও অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির খোঁজ বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দেশের অর্থনৈতিক খাতে আস্থা ফেরাতে হলে শুধু মুখে নয়, কাজে দেখাতে হবে জবাবদিহিতা। এই মামলাটি যদি ঠিকভাবে তদন্ত হয়, তবে তা হতে পারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বার্তা। এখন দেখার বিষয়—এই অভিযোগ আদালতে কতটা টিকে থাকে এবং কতদূর যায় বিচারপ্রক্রিয়া।

