হাইকোর্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারীকে অবসরের ছয় মাসের মধ্যে অবসরকালীন সুবিধা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজি জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৩ পৃষ্ঠার এ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছেন। রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট একই নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখনও বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজি জিনাত হকের বেঞ্চ এই রায় দেন।
রায়ের সময় হাইকোর্ট উল্লেখ করেছেন, “শিক্ষকরা রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট পেতে বছরের পর বছর ঘুরে বেড়ান। এ ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকের বেতনও বিবেচনায় নিতে হবে। তাই অবসরভাতা ছয় মাসের মধ্যে প্রদান করতে হবে। শিক্ষকরা দীর্ঘ সময় ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে পারবে না।”
রিটকারীর আইনজীবী সিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বলেন, “সারা দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী ২০১৯ সালে একটি রিট দায়ের করেছিলেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত তাদের বেতনের ৬ শতাংশ কেটে নেওয়া হতো। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালে ১০ শতাংশ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হলেও ৬ শতাংশের সুবিধা বজায় রাখা হয়। আমরা রিটে দাবী করি, যেন ১০ শতাংশের সুবিধা প্রদান করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর আজ হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন।”
রায়ে বলা হয়েছে, “১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হলেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে। অবসরভাতা ছয় মাসের মধ্যে প্রদান করতে হবে।” বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রবিধানমালা, ১৯৯৯-এর প্রবিধান-৬ এবং ২০০৫-এর প্রবিধান-৮ অনুযায়ী, মূল বেতনের ২ শতাংশ ও ৪ শতাংশ টাকা কেটে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কিছু আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতো।
২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল প্রজ্ঞাপনে এটি সংশোধন করে ৪ শতাংশ ও ৬ শতাংশ করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে নতুন কোনো সুবিধা সংযোজন করা হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষকদের বেতন থেকে ৬ শতাংশ ও ৪ শতাংশ টাকা অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
ফলে অতিরিক্ত অর্থ কেটে কোনো সুবিধা বৃদ্ধি না হওয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারী ক্ষুব্ধ হন। তারা বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কোনো পদক্ষেপ না হলে মানববন্ধন ও কর্মসূচি পালন করেন। ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

