বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ন্যায়বিচার পেয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে তারেক রহমান নির্দোষ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আপিল বিভাগের খালাসের রায়ের পর তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত জিঘাংসার কারণে তারেক রহমানকে এই মামলায় অন্যায়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে তারেক রহমান নির্দোষ। এজন্য তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই রায় দেখাচ্ছে, শেখ হাসিনা প্রকৃত অর্থে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার চাননি। যদি সত্যিই অপরাধীদের বিচার চেয়েছিলেন, আইভি রহমান হত্যার বিচার চাইতেন, কিন্তু জিঘাংসার কারণে তারেক রহমানকে মামলায় টানা হয়েছে। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ খালাসের রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রায় বহাল রাখার সঙ্গে সঙ্গে আদালত হাইকোর্টের নতুন তদন্তের পর্যবেক্ষণ বাতিল করেছেন। আদালত জানিয়েছে, নতুন তদন্তের সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে। বেঞ্চের অন্য পাঁচ জন বিচারপতি ছিলেন মো. আশফাকুল ইসলাম, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. রেজাউল হক, এস এম ইমদাদুল হক ও ফারাহ মাহবুব।
তারেক রহমান-বাবরের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান রায়হান বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম মুকুল ও আজমল হোসেন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক, আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেয়। বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে হাইকোর্ট এ রায় দেন। আদালত জানিয়েছিল, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার ছিল অবৈধ। আইনে তা টেকে না। হাইকোর্ট বলেছিল, নিম্ন আদালতের চার্জশিট আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করে। ২০২৩ সালের ১ জুন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দেয়।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে ফাঁসি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ দলের কয়েকশ নেতা-কর্মী।

