সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য যানবাহন কেনার মূল্যসীমা বাড়ানো হয়েছে। বাজারে গাড়ির বর্তমান দাম বিবেচনায় নিয়ে নতুন এই নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
মঙ্গলবার জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কার, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, কোস্টার মিনিবাস (এসি ও নন-এসি) এবং ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দাম নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে এসব গাড়ির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আগের সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় যানবাহন কেনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অর্থ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে সব ধরনের যানবাহন কেনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। তবে সেখানে স্পষ্ট করা হয়, যেসব সরকারি গাড়ি ১০ বছরের বেশি পুরোনো, সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নির্ধারিত মূল্যসীমা মূলত ১০ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। নতুন এই নির্দেশনা সরকারি, সংবিধিবদ্ধ, স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের সরকারি সংস্থার জন্য কার্যকর হবে। নির্ধারিত দামের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি এবং শুল্ক-কর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রথমবার সব ধরনের সরকারি গাড়ির মূল্যসীমা বাড়ানো হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দফায় কিছু যানবাহনের ক্ষেত্রে দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এবার আগের তালিকার বাইরে থাকা আরও কয়েকটি ক্যাটাগরিতে মূল্য সংশোধন আনা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য এসি মিনিবাস (অনূর্ধ্ব ৪২০০ সিসি) কেনার সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৭৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় নন-এসি বাস (অনূর্ধ্ব ৫৮৮৩ সিসি) কেনা যাবে সর্বোচ্চ ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকায়। আগে এই সীমা ছিল ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। তবে মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে আগের মতোই ৫২ লাখ টাকা মূল্যসীমা বহাল রাখা হয়েছে।
প্রাইভেট কার কেনার সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৪৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ির দাম এবার আর বাড়ানো হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর জিপ গাড়ির (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) মূল্যসীমা ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করা হয়। এসব গাড়ি মূলত গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। গ্রেড-৩ বা তার নিচের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আগের মতোই ৬৫ লাখ টাকা মূল্যসীমা বহাল রয়েছে।
এ ছাড়া সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ কেনার সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৩৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫২ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে ডাবল কেবিন পিকআপের ক্ষেত্রে এবার কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। যদিও চলতি বছরের ৬ মার্চ এই ক্যাটাগরির গাড়ির মূল্যসীমা ৫৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ট্রাকের ক্ষেত্রেও দাম বাড়ানো হয়েছে। ৫ টনের ট্রাক কেনার সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪৭ লাখ টাকা করা হয়েছে। ৩ টনের ট্রাকের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ লাখ টাকা বাড়িয়ে নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ লাখ টাকা। মোটরসাইকেল (অনূর্ধ্ব ১২৫ সিসি) কেনার সর্বোচ্চ মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

