সমাজে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। চাঁদাবাজির ভিডিও ও তথ্য সরবরাহকারীদের জন্য আইফোন, মোটরসাইকেলসহ আকর্ষণীয় পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী এক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যে কেউ চাঁদাবাজির ঘটনা ভিডিও বা প্রমাণসহ পাঠালে বিভিন্ন ধরণের পুরস্কার পাওয়া যাবে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, দেশের যেকোনো স্থানে সংঘটিত চাঁদাবাজির ঘটনা ভিডিও করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়সহ নির্দিষ্ট একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠাতে হবে।
ঘোষণা অনুযায়ী, তথ্যদাতাদের জন্য প্রথমে দেওয়া হবে ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট পাঞ্জাবি। মোট পাঁচ হাজার চাঁদাবাজ শনাক্তের লক্ষ্যে পাঁচ হাজার পাঞ্জাবি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর পাশাপাশি বিশেষ ক্যাটাগরিতে থাকছে আকর্ষণীয় বড় পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
- প্রথম পুরস্কার: একটি আইফোন
- দ্বিতীয় পুরস্কার: ডিজিটাল ক্যামেরা
- তৃতীয় পুরস্কার: একটি মোটরসাইকেল
- চতুর্থ ও পঞ্চম পুরস্কার: বড় আকারের স্মার্ট টেলিভিশন
উদ্যোক্তারা দাবি করেছেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং কোনোভাবেই ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। তারা আরও বলেন, সমাজ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করতে সাধারণ মানুষকে সরাসরি সম্পৃক্ত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
ঘোষণা অনুযায়ী, এই কার্যক্রম ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৩০ মে পর্যন্ত চলবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ প্রতিরোধে নাগরিক সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এমন পুরস্কারভিত্তিক উদ্যোগ নতুন ধরনের বিতর্কও তৈরি করতে পারে। একদিকে এটি তথ্য সংগ্রহে উৎসাহ বাড়াতে পারে, অন্যদিকে ভুল তথ্য বা অপব্যবহারের ঝুঁকিও থেকে যায়। সব মিলিয়ে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে এটি কতটা কার্যকরভাবে অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখতে পারে।

