রাজধানীতে ছিনতাই ও চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়ে জামিনে বের হওয়ার পর আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে একই ব্যক্তিরা পুনরায় ছিনতাইয়ে যুক্ত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মোহাম্মদপুরের নবীনগর এলাকায় গত ১৮ মার্চ ফের গ্রেফতার হন ইমন ও শিপন নামে দুই যুবক। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা নবীনগর ৯ নম্বর সড়কে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের এক ডেলিভারিম্যানকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এর আগে ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার হয়ে তারা কারাগারে ছিলেন। মাত্র এক মাসের মাথায় জামিনে বের হয়েই আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তারা।
একই ধরনের ঘটনার আরেকটি উদাহরণ মো. শাহাদাত। চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি এক মাস কারাগারে ছিলেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় আবারও চুরির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। পুলিশ জানায়, শাহাদাত চুরি করা স্বর্ণালংকার নিজের স্ত্রীর কাছে দিতেন। পরে তার স্ত্রী সেই স্বর্ণালংকার জুয়েলারি দোকানে বিক্রি করতেন।
অন্যদিকে মো. সেলিম নামে এক যুবকের নামও একাধিক ছিনতাই মামলায় রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিউমার্কেট ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। ২০১৬ সালে প্রথমবার কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন তিনি। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে আবারও ছিনতাইয়ে যুক্ত হন সেলিম। এরপর একাধিকবার গ্রেফতার হলেও প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে অপরাধে ফিরে যান তিনি। ইমন, শিপন, শাহাদাত বা সেলিমের মতো অনেকেই ঢাকায় ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার হওয়ার এক থেকে তিন মাসের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ সপ্তাহের ব্যবধানেই মুক্তি পান বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও আইনজীবীদের মতে, চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলায় জামিন পাওয়া তুলনামূলক সহজ হওয়ায় অনেক আসামি দ্রুত মুক্তি পান। জামিনে বের হয়েই তারা আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এ বিষয়ে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “জেল থেকে বের হওয়ার পরপরই আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু অপরাধী সকালে জামিনে বের হয়ে বিকেলেই আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, সমাজের জন্যও বড় হুমকি।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকায় বর্তমানে আট হাজারের বেশি ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। তাদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি ছিনতাই ও মাদক মামলার রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া অর্ধেকেরও বেশি ছিনতাইকারীর নামে ৫ থেকে ৯টি মামলা রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সাজাও হয়েছে, তবুও তারা জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে ফিরছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ছিনতাই মামলার আসামিদের জামিনে সহায়তা করা আইনজীবীদেরও একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে। আদালতে তারা এসব আসামির বিষয়ে খোঁজখবর রাখার অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে জামিনের পর অনেক ক্ষেত্রেই আর কোনো নজরদারি থাকে না। রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানের তুলনায় বাস্তব পরিস্থিতি আরও জটিল বলে মনে করছে পুলিশ। অনেক ভুক্তভোগী ঘটনার পর থানায় অভিযোগ না করায় প্রকৃত ছিনতাইয়ের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ঢাকা মহানগর পুলিশ) অপরাধ সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৪৬৪টি। এর মধ্যে ৮২০টি ঘটনায় ছিনতাইকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে ৬৪৪টি ঘটনায় ছিনতাইয়ের সময় আসামিদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই সময়ের মধ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ধীরে ধীরে বেড়েছে।
তবে পুলিশ মনে করছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। কারণ অনেকেই ছিনতাইয়ের শিকার হলেও থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন না। ভীতি, সময়ক্ষেপণ কিংবা জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে অনেকে ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করতেও আগ্রহী হন না। ফলে রাজধানীতে ছিনতাইয়ের প্রকৃত চিত্র সরকারি পরিসংখ্যানের বাইরে থেকে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীতে ছিনতাই চক্রের বেশিরভাগ সদস্যই ভাসমান ও উঠতি বয়সী তরুণ—এমন চিত্রই উঠে এসেছে পুলিশের বিভিন্ন বিশ্লেষণে। তাদের মতে, এই অপরাধে জড়িয়ে পড়া তরুণদের একটি বড় অংশ দ্রুতই সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ছিনতাই গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। বংশাল, তাঁতীবাজার এবং ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকার মতো কিছু জায়গায় এসব গ্রুপের প্রভাব রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে অনেকেই এককভাবে ছিনতাই শুরু করলেও পরবর্তীতে তাদের গ্রুপে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয় বা তারা স্বেচ্ছায় যুক্ত হয়ে পড়ে। গ্রুপে থাকলে জামিন ও আইনি সহায়তা পাওয়া তুলনামূলক সহজ হয় বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
মাদকাসক্তি এই চক্রগুলোর একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ছিনতাই চক্রের অনেক সদস্যই মাদকাসক্ত এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের জন্য তারা এই অপরাধ থেকে সরে আসে না। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তারা আবার একই কাজে ফিরে যায়।
তিনি আরও জানান, এসব চক্রের সঙ্গে যুক্তদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু আইনজীবীও কাজ করেন। জামিনে বের হওয়ার পর অনেকেই সেই আইনজীবীদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করে থাকে। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে আদালতও বয়স ও পরিস্থিতি বিবেচনায় জামিন দিয়ে থাকেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ঢাকা মহানগর পুলিশ) ছিনতাই প্রতিরোধ টাস্কফোর্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে ছিনতাইয়ের সময় হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছে ১ হাজার ৮৪১ জন। একই সময়ে জামিন পেয়েছে ১ হাজার ৭৮৬ জন। এই সময়ে ২৭৭টি ছিনতাই মামলা হয়েছে এবং দ্রুত বিচার আইনে ১১২টি মামলা করা হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রেফতার হওয়া এসব ছিনতাইকারীর বড় অংশই জামিনে বের হয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি জামিন পাওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই পুনরায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতারের ঘটনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালত পরিস্থিতি ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় জামিন দিতে পারে। তবে মামলার যথাযথ তদারকির অভাব অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীদের জামিন পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। এতে পেশাদার অপরাধীরা বাইরে এসে আবার সক্রিয় হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
মুক্তি পেয়েই আবার ছিনতাইয়ের পথে:
এর আগে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) এর এ কে এম শহিদুর রহমান জানান, কয়েক মাসে তারা কয়েকশ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করলেও তাদের একটি অংশ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারও ছিনতাই কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন।
তিনি তখন সরকারপক্ষের আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আদালতে এসব অপরাধীর কর্মকাণ্ড এবং জনজীবনে এর ভয়াবহ প্রভাব যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে, যাতে জামিন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তা বিবেচনায় আসে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়ানোর ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে।
একটি আলোচিত ঘটনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুর থানার বছিলা সিটি ডেভেলপার্স এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় মো. ফারুক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় এবং দোকানের এক কর্মচারীকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। একই দিনে বছিলার ৪০ ফিট রোডে একটি টাওয়ারের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
পরে পুলিশ মো. ফারুককে গ্রেফতার করে। সে সময় তাকে নিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক মাইকিংও করা হয়, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেনাবাহিনী তাকে তিনবার গ্রেফতার করে। তবে প্রতিবারই জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
অন্যদিকে আদাবরের আবির এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলার ঘটনায় রোহান খান রাসেল নামে এক আসামির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। এক মামলায় তিনি গ্রেফতারও হন। এসব ঘটনায় মোহাম্মদপুর এলাকায় পুনরাবৃত্ত অপরাধের প্রবণতা বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জুয়েল রানা) বলেন, “জেল থেকে বের হওয়ার পরপরই আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কিছু অপরাধী সকালে জামিনে বের হয়ে বিকেলেই আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, সমাজের জন্যও বড় হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের পরিবারের ভূমিকাও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বারবার জামিন করিয়ে এনে অপরাধে সুযোগ করে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি যোগ করেন, অপরাধীকে শুধু গ্রেফতার করাই সমাধান নয়, তাকে সমাজে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা প্রয়োজন।
এদিকে কিশোর গ্যাং ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (মো. আলী হোসেন ফকির)। তিনি জানান, এলাকায় অপরাধীদের তালিকা তৈরি করা হবে এবং জামিনে মুক্তির পর তাদের প্রতি সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছে হাজিরা দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া শিগগিরই চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আইনি কাঠামোর দুর্বলতা:
ঢাকায় অপরাধীদের বারবার জামিনে মুক্তি পাওয়ার প্রবণতা নিয়ে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, মামলার দুর্বলতা, তদন্তে ঘাটতি এবং প্রমাণ উপস্থাপনের সীমাবদ্ধতা অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অনেক সময় মামলাগুলো দুর্বল ধারায় সাজানো হয় বা অপরাধের বিবরণকে হালকা করে দেখানো হয়। এতে প্রকৃত অপরাধীরা সহজেই আইনি জটিলতা এড়িয়ে বেরিয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, এটি শুধু বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাঁর মতে, এমন অনিয়ম থাকলে তা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ধরে রাখতে জামিন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, অপরাধীদের জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের ফরওয়ার্ডিং রিপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকে বা সন্দেহ থেকে যায় যে আসামি প্রকৃত অপরাধী কি না, তাহলে আদালত আইনি বিধান অনুযায়ী জামিন দিতে বাধ্য হন।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের গ্রেফতার ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রকৃত অপরাধীকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা না হলে মামলার গতিপথ জটিল হয়ে পড়ে। এতে বিচারিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব পড়ে।
মনজিল মোরসেদের মতে, বারবার একই ধরনের অপরাধে জড়ানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যদি প্রসিকিউশন বিষয়টি আদালতের নজরে আনতে পারে, তবে সাধারণত তাদের জামিন পাওয়া কঠিন হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্বলতা থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধীদের ক্ষেত্রে জামিন সাধারণত সীমিত হওয়ার কথা। কিন্তু পুলিশের দেওয়া আইনি ধারা প্রয়োগ ও প্রমাণ উপস্থাপনের ঘাটতি অনেক সময় এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। তাঁর মতে, তদন্ত প্রতিবেদনের মান উন্নত করা এবং বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত প্রভাবমুক্ত রাখা গেলে অপরাধীদের বারবার জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

