দেশের বেসরকারি জীবন বীমা খাতে আবারও বড় ধরনের অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে ঘিরে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় গ্রাহকের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে হাজারো বীমা গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে তালা ঝুলছে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গ্রাহকরা প্রতিদিনই ফিরে যাচ্ছেন হতাশ হয়ে। অনেকে তাদের জমাকৃত বীমার টাকা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পরিশোধ হয়নি। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কোম্পানির কার্যক্রম এখন সীমিত আকারে অন্য একটি স্থানে পরিচালিত হলেও সেখানে গ্রাহকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অফিসে নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিক ও সাধারণ গ্রাহকদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় কার্যালয়েও একই ধরনের অচলাবস্থা দেখা গেছে। অনেক অফিসে কর্মী সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, আর বেশিরভাগ কক্ষই তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বোর্ড পুনর্গঠন করা গেলে কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ধাপে ধাপে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত। সম্পদ বিক্রি করে অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে, তবে কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিকবার জরিমানা আরোপ করা হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা খাতে দুর্বল নজরদারি ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের সংকট বারবার দেখা দিচ্ছে। তারা সতর্ক করেছেন, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠান একই পথে যেতে পারে, যা পুরো খাতের প্রতি আস্থার সংকট আরও বাড়াবে।
১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহক সংখ্যা এক লাখের বেশি হলেও এখন উল্লেখযোগ্য অংশই তাদের প্রাপ্য অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অনেকে বছরের পর বছর ধরে বীমার টাকা ফেরতের অপেক্ষায় আছেন।সব মিলিয়ে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া, গ্রাহকের অর্থ ফেরত না পাওয়া এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ধীর পদক্ষেপ—সবকিছু মিলিয়ে বীমা খাতে নতুন করে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

