ঋণের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, যেখান থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের একটি তদন্ত টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করতে ব্যাংকের নথিপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের তথ্য এবং সম্পদ বিবরণী চাওয়া হয়েছে। তদন্তে ব্যাংকের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া রফতানি বিল ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ দেশের বাইরে স্থানান্তরেরও অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যে আরও জানা গেছে, এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরা বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি বিদেশের কয়েকটি শহরেও সম্পদ থাকার অভিযোগ উঠেছে।
ব্যাংক খাতের এই ধরনের অনিয়মের প্রভাব ইতোমধ্যে সাধারণ গ্রাহকদের ওপরও পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত অর্থ তুলতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন, যা ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো বিষয়টি এখনও অনুসন্ধানাধীন। তদন্ত শেষে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

