দেশের বিভিন্ন সেতুতে টোল আদায় কার্যক্রম ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক টোল ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার পরিমাণ শত শত কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
একাধিক সূত্রের দাবি, মেঘনা-গোমতী সেতুসহ দেশের অন্তত ৬৭টি সেতুর টোল আদায়ে ব্যবহৃত সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে এই অনিয়ম ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টোল আদায়ের তথ্য সংরক্ষণকারী ডাটাবেজ থেকে গাড়ি পারাপারের তথ্য মুছে ফেলে প্রকৃত আয়ের একটি অংশ আড়াল করা হচ্ছে। ফলে সরকারি হিসাবে যে পরিমাণ টোল দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে আদায় তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সরকারি ক্রয়বিধি উপেক্ষা করে মৌখিক নির্দেশে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সফটওয়্যারভিত্তিক এমন অনিয়ম শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন। কারণ ডাটাবেজ বা সার্ভার লগ পরিবর্তন করা হলে তা সাধারণ পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে না। এজন্য নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন অডিট ছাড়া প্রকৃত আর্থিক চিত্র জানা কঠিন হতে পারে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, কিছু ক্ষেত্রে টোলপ্লাজার নির্দিষ্ট লেনের ক্যামেরা বন্ধ রেখে গাড়ি পারাপার করা হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে গাড়ির ছবি বা ভিডিও ফুটেজ থাকলেও লেনদেনের তথ্য অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ের টোল আদায়ের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অনিয়ম শুধু রাজস্ব ক্ষতির কারণ নয়, বরং পুরো টোল ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে যখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আসে, তখন এ ধরনের অভিযোগ আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে, টোল আদায়সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে এবং এ বিষয়ে অনুসন্ধানের প্রস্তুতি রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক অডিট ব্যবস্থা, রিয়েল-টাইম ডাটা মনিটরিং এবং কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামো জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অনিয়ম চলতে পারে, যা সরকারের রাজস্ব ও জনআস্থার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

